রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার মো. বিল্লালকে ফের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পর দুই আসামি মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন আসামিপক্ষের কোনও আইনজীবী আদালতে ছিল না। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি তিন আসামিকে সাতদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাতদিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আসামি বিল্লালের সাতদিনের রিমান্ড এবং আব্দুল কাদির ও রিয়াজকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামি বিল্লাল কৌশলে মামলার ঘটনার বিষয় এড়িয়ে যায়। কিন্তু, ভিডিও ফুটেজ ও আসামি শুটার জিন্নাত নিজের জবানবন্দিতে বিল্লালকে হত্যার পরিকল্পনাকারী, লেনদেনকারী এবং অস্ত্র জোগানের হোতা বলে উল্লেখ করেন। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রের উৎস শনাক্তসহ এবং মূল হোতাকে গ্রেফতার করার জন্য ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনাসহ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাতদিনের জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিদিনের মতো গত ৭ জানুয়ারি মোসাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় আড্ডা দেন। আড্ডা শেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। ১০ মিনিট পর তেজতুরী বাজারের আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে তার গতিরোধ করে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন তাকে গুলি করে। তাদের ছোঁড়া গুলির আঘাতে মোসাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। আসামিরা মৃত ভেবে পালিয়ে গেলে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করে এবং মাসুদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। ওই ঘটনার দিনই নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২) রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।









