শিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ দাবি

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫০আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫০

কুষ্টিয়ায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। শিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমজেএফ জানায়, শিশুদের প্রতি এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে ব্যক্তিগত পরিসরে, জনসমাগমস্থলে এবং মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। কুষ্টিয়ার মাদ্রাসায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতিকে আবারও স্পষ্ট করেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন কন্যাশিশু ও দুই জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এছাড়া ১৪ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে এ তালিকায়। ২০২৫ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে আসক।

এমজেএফ এ বিষয়ে দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানাচ্ছে। সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর মতো ঘটনা না ঘটলে এসব বিষয় সামনে আসে না।

অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার শিশুটি এখন জীবন রক্ষার লড়াই করছে বলেও দুঃখ প্রকাশ করে জানান শাহীন আনাম। একইসঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে মাদ্রাসায় শিশুটি আবাসিক ছাত্রী ছিল, সেই মাদ্রাসার প্রধানসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শুধু গ্রেফতার করলেই শিশুদের ওপর চলমান এই নৃশংসতা বন্ধ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচারিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং অভিভাবকদের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি। কারণ শিশুরা ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা জনসমাগমস্থল, সব জায়গাতেই সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, এই দায়িত্ব পালনে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং কার্যকর উদ্যোগে যুক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছে নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আমাদের লক্ষ্য, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে শিশুরা নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারবে।

/আরকে/
সম্পর্কিত
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধকে আটকে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
সাক্ষ্য দিতে এসে যা বললেন রামিসার বাবা
সর্বশেষ খবর
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
সোভিয়েত ভূমিতে জসীম উদ্‌দীন
সোভিয়েত ভূমিতে জসীম উদ্‌দীন
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি