ঢাকার ছিন্নমূল মানুষের জীবনে নেই ঈদের আনন্দ

সুহাইল আহমদ 
২০ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৭আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৭

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাস রোজা রাখার পর সামর্থ্যবান মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। নতুন পোশাক, ভালো খাবার আর ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনায় মুখর থাকে চারপাশ। তবে সমাজের এক বড় অংশ—ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের কাছে এই আনন্দ খুব কমই ধরা দেয়। ভালো খাবার কিংবা নতুন জামা-কাপড় তাদের জীবনে অনেক সময়ই অধরা থেকে যায়। অনেকের ঈদের দিন কাটে ফুটপাতে বসে বা শুয়েই, অন্য দিনের মতোই।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহর অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু ফুটপাত, পার্ক কিংবা রাস্তার পাশে যাদের থাকা-খাওয়া ও ঘুম—তারা রয়েছেন নগরীতেই। অন্য দিনের মতোই তাদের ঈদের দিন কেটেছে। রাস্তার পাশে থাকা পরিবারগুলোর শিশুরা পথচারীদের কাছে সাহায্য চাইছে। কেউ কেউ ঈদ উপলক্ষে তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

কিছু ছিন্নমূল শিশুর শরীরে নতুন জামা দেখা গেলেও অনেকের ভাগ্যে তা জোটেনি। এসব ভাসমান পরিবারের প্রধানদের কাছে ঈদ যেন হতাশার আরেক নাম। কারণ, ঈদ এলে শিশুদের নতুন জামা, ভালো খাবার বা ঘোরার বায়না থাকে। কিন্তু দিনমজুরির টানাপোড়েন কিংবা ভিক্ষার ওপর নির্ভরশীল জীবনে সেই চাহিদা পূরণ করা অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উৎসবের দিনও তাদের কাছে রয়ে যায় বর্ণহীন।

অনেকের ঈদের দিন কাটে ফুটপাতে বসে বা শুয়েই

এসব হতদরিদ্র মানুষ জানান, প্রতিদিনই টিকে থাকার সংগ্রামে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। অনেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। কেউ টাকা দিলে তা দিয়ে খাবার কিনে খেতে হয়। কোনও কোনও দিন খাবার না পেলে শুধু পানি খেয়েই কাটাতে হয় দিন।

ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় দেখা যায় ছিন্নমূল দম্পতি রমিজ মিয়া ও আছিয়া বেগমকে। পাশে তাদের চার বছরের সন্তান বৃষ্টি।

রমিজ মিয়া বলেন, “আমরা এখানেই থাকি। ঈদের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে। অন্যদের ঘরে উৎসব থাকলেও আমাদের সেই উৎসব নেই। ভিক্ষা করেই জীবন চলে।”

রাহেলা বেগম বলেন, “ঈদ এলে অন্যরা নতুন জামা-কাপড় কিনে, ভালো খাবার খায়, ঘোরে। আমরা গরিব মানুষ—সদরঘাটের ফুটপাতে থাকি, ফুটপাতেই খাই।”

লক্ষীবাজারের ফুটপাতে থাকা জুলেখা বলেন, “দুই সন্তান নিয়ে রাস্তায় থাকি। বাঁচতেই তো কষ্ট হয়। আমাগোও ঈদ করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কী করমু? টাকা-পয়সা নাই। থাকলে ঈদে নতুন কাপড় কিনতাম।”

রমজান ও ঈদের সময় অন্য সময়ের তুলনায় ভিক্ষা কিছুটা বেশি পাওয়া যায় বলে জানান জামাল আলী। তবে ঈদ উপলক্ষে তিনি অন্য কোনো সহায়তা পাননি।

সদরঘাট, ভিক্টোরিয়া পার্ক, রায়সাহেব বাজার, তাতীবাজার, লক্ষীবাজার ও কলতাবাজারসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব জায়গার ফুটপাতে বসে বা শুয়ে আছেন অনেক মানুষ। ঈদের দিনেও তাদের জীবনে নেই উৎসবের ছোঁয়া। কেউ কিছু দেবে—এই আশায় অপেক্ষা করছেন তারা। ভিক্ষা কিংবা সামান্য সহায়তার জন্য এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটছেন।

ঈদের আনন্দ যখন শহরের অনেক ঘরে ঘরে, তখন রাজধানীর ফুটপাতজুড়ে কিছু মানুষের দিন কেটে যায় নীরব সংগ্রামে। তাদের কাছে ঈদ মানে কেবল আরেকটি দিন—টিকে থাকার লড়াইয়ের দিন।

/এম/
সম্পর্কিত
ঈদযাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৯৪ জনের
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল, দুর্ঘটনা কমেছে: সড়কমন্ত্রী
উৎসবের আতঙ্ক
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম