রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন ও জামিন আবেদন—উভয়ই নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশ শেষে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে যখন প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাদের ‘শিরীন শারমিন ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর আগে দুপুর ২টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় তাকে সিএমএম কোর্টের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।
শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ২৪-এর ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন। তিনি এই মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।”
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মামুন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে বলেন, “শিরীন শারমিন চৌধুরী তৎকালীন সময়ে নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন এবং তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নারী আইনজীবী। এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই এবং ঘটনার দীর্ঘ ১০ মাস পর এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় তার জামিন হওয়া উচিত।”
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মো. আশরাফুল (ফাহিম) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ মে শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিনসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, শিরীন শারমিন চৌধুরী তৎকালীন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম কুশীলব ছিলেন এবং তার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশেই সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।









