অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগসহ ব্যভিচারের মামলায় ক্রিকেটার নাসিরের স্ত্রী তামিমার সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে করা মামলায় বাদীপক্ষের জেরায় তালাকের দুই কারণ জানান তামিমা। সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা না হওয়ায় রাকিবকে তালাক দেন তিনি। জেরায় তামিমার বয়ফ্রেন্ড অলকের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
গত ৩০ মার্চ এ মামলায় নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যে জবানবন্দি দেন তামিমা। এরপর বাদীপক্ষ থেকে জেরা শুরু হয়। তবে, ওইদিন জেরা শেষ হয়নি। অবশিষ্ট জেরার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিল আদালত।
এদিন নাসির ও তামিমা আদালতে হাজির হন। মামলার বাদী রাকিবও আদালতে উপস্থিত হন।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে তামিমাকে জেরা শুরু করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান ও সুবীর নন্দী দাস। ঘণ্টাখানেক জেরার পর বিরতিতে যায় আদালত। বেলা ৩টায় পুনরায় তারা আবার তামিমাকে জেরা শুরু করেন। ৩০ মিনিট জেরা করেন তাকে।
সাংসারিক এবং মানবিক বনিবনা না হওয়ায় রাকিবকে তালাক দেন মর্মে তালাকনামায় উল্লেখ করেন। জবাবে তামিমা বলেন, ‘হ্যাঁ’। রাকিবের বিরুদ্ধে ভরণ-পোষণ, যৌতুক বা অন্য মামলা করবেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তামিমা ‘না’ বলেন।
ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তামিমা বলেন, ‘না’। কাবিননামা এবং তালাকনামায় জন্মসাল ভিন্ন এমন প্রশ্নে তামিমা ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।
প্রতারণা করার জন্য বিভিন্ন নিকাহনামায় বিভিন্ন জন্ম সাল উল্লেখ করেছেন, আইনজীবীর এমন প্রশ্নে তামিমা বলেন, ‘সত্য না’। বিয়ের আগে নাসিরকে স্বামী রাকিব, মেয়ে এবং বয়ফ্রেন্ড অলকের বিষয়টি জানিয়েছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন।
রাকিব পর্দার দোকানের ম্যানেজার আর নাসির অর্থবিত্তের মালিক। রাকিবের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগে অর্থবিত্তের প্রলোভন দেখিয়ে, নাসির তাকে অবৈধভাবে বিয়ে করেছেন- আইনজীবীর এমন প্রশ্নে জবাবে তামিমা ‘সত্য নয়’ বলে জানান। আপনি এখনও রাকিবের স্ত্রী এবং নাসিরের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত এমন প্রশ্নেও সত্য নয় বলে জানান তিনি। বৈধভাবে রাকিবকে তালাক দেননি এই প্রশ্নেও ‘সত্য নয়’ বলে জানান এই নারী।
এরপর নাসিরের পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুদু তামিমাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আগামী ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও বাদী রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসিরের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাকিব মামলাটি করেন। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে তিন জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে, নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু। অন্যদিকে, সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। ওই বছরের ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ১০ মার্চ মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।









