বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে মোট ২৮ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছিলেন। তবে, শেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে মাত্র চারটি ব্যালট। রবিবার (১২ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ বা ওসিভি সিস্টেম বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “বগুড়া-৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তিনটি এবং শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাতে পেয়েছেন মাত্র একটি ব্যালট।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছিলেন সাত হাজার ৩০৯ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৬৬৪ জন। বগুড়া-৬ আসনে এক হাজার ২৮১ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হলেও ভোট দিয়েছেন ২৩ জন এবং চূড়ান্তভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে মাত্র তিনটি ব্যালট। অথচ, এই একই আসনে দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভোটারদের মধ্যে দুই হাজার ৪৫৫ জন নিবন্ধিত হয়ে এক হাজার ৬৫ জন তাদের ভোট পাঠাতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনের চিত্রও একই। সেখানে ৩৮৩ জন প্রবাসীর মধ্যে পাঁচজন ভোট দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে পৌঁছেছে মাত্র একটি ব্যালট। বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য তিন হাজার ১৯০টি ব্যালট ইস্যু করা হয়েছিল এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা সময়মতো দুই হাজার ১৮টি ব্যালট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকলেও প্রবাসীরা এই সুযোগ পেত না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই প্রথমবার আইটি সমর্থিত অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই সময় ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এমনকি, ওই নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়ার হার ছিল ৭০ শতাংশ, যা সাধারণ ভোটের হারের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে, সদ্য নির্বাচন শেষ হওয়া এই দুই আসনের চিত্র সেই সাফল্যের তুলনায় একদমই বিপরীত।
এই দুই আসনের জন্য গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয় পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়া। যেগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর সময় শেষ হয় ৯ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টায়। দুই আসনের নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণের এই নাজুক পরিস্থিতি এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর জন্য নির্বাচনি প্রচারণায় প্রবাসীদের কম সম্পৃক্ততা ও সচেতনাতার অভাবকে কারণ হিসেবে দেখছেন ইসি কর্মকর্তারা।
গত ৯ এপ্রিল হওয়া নির্বাচনে দু’টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. রেজাউল করিম বাদশা। আর শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল।









