রাজধানীর রামপুরা থানার আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার অন্যতম সহযোগী মো. শফিকুল ইসলাম বাদশা ওরফে গুজা বাদশাকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোডের নিউ টাউন আবাসিক এলাকার মাতুয়াইলের একটি আটতলা ভবনের (ড্রিম হাউজ-১৮) ৮ম তলার একটি ফ্ল্যাটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে গ্রেফতার হন গুজা বাদশা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে নিজ বাসার তৃতীয় তলায় সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে সন্ত্রাসীরা কক্ষের ভেতরে ঢুকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধৃত আসামিসহ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হলেও গুজা বাদশা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকায় গুজা বাদশার নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন প্রভাবশালী অপরাধী হিসেবে পরিচিত।
পরবর্তীতে বিষয়টি র্যাব-৩ এর নজরে এলে তাদের গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গুজা বাদশার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার নামে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।









