জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন (৫৩) ও তার স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম (৪৩) এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এটিএম বিভাগের কার্টোগ্রাফার মো. আব্দুস সোবহানের (৫০) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক তিনটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন।
সাবেক সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। এছাড়া আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন সহকারী পরিচালক মো. মাহবুব মোর্শেদ।
ফরহাদ হোসেনের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ছয় কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১ টাকা ও মোট উত্তোলনের পরিমাণ ছয় কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৬ টাকা। এই জমা ও উত্তোলন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। এসব অভিযোগে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।
মোনালিসা ইসলামের আবেদনে বলা হয়, এই আসামি ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগিতায় ৯৪ কোটি পাঁচ লাখ ৯৩২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং দণ্ডবিধি শাস্তিযোগ্য অপরাধে মামলা করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি সৈয়দা মোনালিসা ইসলামের মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা প্রয়োজন।
আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে এক কোটি ১০ লাখ ২৪০ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে তা দখলে রাখা এবং ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ১৫৫ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের সম্পদের তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মো. আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।







