ভুক্তভোগীকে বিয়ে করে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়েছেন তিন সন্তানের জনক সাইফুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিনের আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম সবুজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ধর্ষণের অভিযোগ এনে সাইফুলের বিরুদ্ধে গত ২৫ জানুয়ারি ভাটারা থানায় মামলা করেন ৩৬ বছরের ওই নারী। গত ৩১ মার্চ গুলশানের বারিধারা এলাকা থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা। এ জন্য দুপক্ষ থেকে আপসের কথা হয়। অবশেষে ১০ লাখ টাকা দেহমোহরে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করতে রাজি হন সফিকুল।
আজ মামলা শুনানির দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষ ও বাদীপক্ষ আদালতকে আপসের বিষয় জানায়। পরে আদালতে বসেই ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে তাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। আদালত আসামিকে তিন মাসের মধ্যে দেহমোহরের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। এরপর পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আদালত তার জামিনের আদেশ দেন।
আইনজীবী শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, “দুপক্ষের মধ্যে একটা আপস হয়েছে। ১০ লাখ টাকা দেহমোহর ধার্যে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে আদালত দেহমোহরের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।” সাইফুলের আগের সংসার থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম. মিজানুর রহমান বলেন, “বাদী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মামলাটা আপস হয়েছে। আসামির জামিন হয়েছে। তারা সংসার করতে চান।”
মামলায় অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাইফুল বিয়ের কথা বলে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। স্ত্রী পরিচয়ে ওই নারীকে ভাটারার নতুন বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া করে দেন। সেখানে গিয়েও ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তিনি। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী। গত ১৩ জানুয়ারি বিয়ের আশ্বাস দিয়েও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন সাইফুল।









