‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার’ কী, কেন দেওয়া হয়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৫ মে ২০২৬, ২০:৪৩আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ২০:৪৩

‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার’ বা বিচারিক ক্ষমতা হলো প্রশাসনিক বা সামরিক কর্মকর্তাদের প্রদত্ত বিশেষ আইনগত ক্ষমতা। যার মাধ্যমে তারা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী অপরাধ আমলে নেওয়া, তাৎক্ষণিক গ্রেফতার, তল্লাশি পরিচালনা, জামিন প্রদান কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করার নির্দেশ দিতে পারেন।

এই বিশেষ ক্ষমতার উদ্দেশ্য মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা। সিআরপিসির বিভিন্ন ধারার আওতায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কী কী করতে পারেন

এই ক্ষমতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারেন। অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলে যে কাউকে আটক করতে পারেন। আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়াই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তল্লাশি চালাতে পারেন।

এছাড়া বেআইনি জনসমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দিতে পারেন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা নিতে পারেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক দণ্ড প্রদান করতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। 

কারা এই ক্ষমতা পান

সাধারণত এই ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে ন্যস্ত থাকে। তবে জরুরি অবস্থা, জাতীয় নির্বাচন বা বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছেও সাময়িকভাবে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত মেয়াদ যেমন ৬০ দিন বা তার বেশি সময় দেশব্যাপী এই ক্ষমতা কার্যকর রাখতে পারে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার দাবি প্রায়ই ওঠে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে এই ক্ষমতা দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত বিএনপি সরকার এই ক্ষমতার মেয়াদ আর নবায়ন করেনি বলে মঙ্গলবার (৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর মোট ১৭টি ধারায় সেনা কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারতেন। এসব ধারার মধ্যে ছিল- ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারা।

এই ক্ষমতার আওতায় গ্রেফতার, তল্লাশি, জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জামিন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ ছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

/জেইউ/ইউএস/
সম্পর্কিত
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেলো সেনাবাহিনী
হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের মাঞ্জিল হায়দার ফের ৩ দিনের রিমান্ডে 
এপিবিএনের অভিযান বিমানবন্দরে দুই মাসে ৩৬ জন ‘দর্শনার্থী ছদ্মবেশি’ গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
যমজ দুই বোনের সাফল্য দেখে গর্বিত বাবা-মা, খুশি শিক্ষকরা
যমজ দুই বোনের সাফল্য দেখে গর্বিত বাবা-মা, খুশি শিক্ষকরা
খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
‘দুই দিন ধরে খাইনি, ভাত নিয়ে আসো’ বলার পর অসুস্থ যুবককে পিটিয়ে হত্যা
‘দুই দিন ধরে খাইনি, ভাত নিয়ে আসো’ বলার পর অসুস্থ যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু