রাজধানীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত হয়েছে। আরেক ঘটনায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়া বাস থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করেছেন পুলিশ সদস্যরা। অন্য একটি ঘটনায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করে মাত্র এক দিনের মধ্যে উন্মোচন করা হয়েছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য।
সোমবার (৮ জুন) ব্যতিক্রমী সাহসিকতা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত তিনটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বহুল আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের সাহসী উদ্ধার অভিযান এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ক্লু-লেস কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা
পল্লবী থানার রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড দেশের অন্যতম আলোচিত মামলায় পরিণত হয়েছিল। মামলাটির তদন্তে দ্রুততা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার, ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সংগ্রহ, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিশ্চিত করা এবং সফল তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা।
এজন্য পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন, এসআই (নিরস্ত্র) অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের আভিযানিক দলের মোট নয়জন কর্মকর্তাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৫০ যাত্রীকে রক্ষা
ঈদুল আজহার পর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে নৌ পুলিশের সদস্যরা এক নজিরবিহীন সাহসিকতার পরিচয় দেন। একটি যাত্রীবাহী বাসে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাসটি খালি করেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
এই অসাধারণ বীরত্বের জন্য মাদারীপুরের চর জানাজাত ও কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আবুজার গিফারীসহ তিনজন নৌ পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
ক্লু-লেস হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ২৪ ঘণ্টায়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদী থেকে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ। শুরুতে পরিচয় তো দূরের কথা, তদন্তকারীদের হাতে ছিল না কোনো দৃশ্যমান সূত্র। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মাত্র এক দিনের মধ্যে কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও নিশ্চিত করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার সফল তদন্তের জন্য পিবিআই মুন্সীগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) রনি দেবনাথসহ তিনজন কর্মকর্তাকে বিশেষ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনের সময় যেসব সদস্য অসাধারণ সাহসিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধরনের পুরস্কার দেওয়া হয়।
তাদের মতে, এই স্বীকৃতি একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে, অন্যদিকে বাহিনীর অন্য সদস্যদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট নীতিতে বিশ্বাস করি। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি, মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার। সৃষ্টির পালন এবং দুষ্টের দমন— এটা আমাদের নীতি, তা আমরা বাস্তবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।”









