জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেন।
রবিবার এ মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করে সোমবার শুনানি করবেন মর্মে আদালতকে জানান। আদালত আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে জামিন শুনানির দিন রাখেন সোমবার।
আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া শুনানিতে বলেন, গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। কারাগার থেকে মুক্তির আগমুহূর্তে আবার এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কি কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো, এই ঘটনার সাথে তার কি সম্পৃক্ততা রয়েছে তা আমাদের জানা নেই।
এসময় বারকাতের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতকে বলেন, অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, উনি যে ব্যক্তি তাতে তার এই ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক বা জড়িত থাকার কথা নয়। এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তার সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। এবং দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা অর্থ দেশ থেকে পাচার করেছেন। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সবধরনের সহযোগিতা করেছেন। তাই তাকে জামিনের বিরোধিতা করছি।
গত ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৭ জুন দুদকের এ মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ।
জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক। ওইদিন জুলাই আন্দোলনের সময়কার আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে নীলক্ষেত এলাকায় গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
এ মামলায় বাদী হয়েছেন তার শ্যালক আব্দুর রব। মামলা হয় নিউ মার্কেট থানায়। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ আসামি করা হয় ১৩০ জনকে।









