বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসন এবং ৩৮তম ব্যাচ পর্যন্ত যোগ্য কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রভাষকরা।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় কবি নজরুল সরকারি কলেজে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের কাছে এই স্মারকলিপি দেন প্রভাষকরা, যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর বিষয়ে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিসিএসের দীর্ঘ প্রাক-নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বাস্তব চাকরিজীবন মিলিয়ে সিভিল সার্ভিসে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদচারণা প্রায় এক যুগ (১২ বছর) হলেও তারা চরম বৈষম্য ও দীর্ঘস্থায়ী পদোন্নতি জটের শিকার। সমসাময়িক অন্যান্য ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে, ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে (সিনিয়র স্কেল) উন্নীত হয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন; অথচ শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা এখনও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে তাদের পেশাগত অগ্রগতি ও আর্থিক সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমসাময়িক অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তা, সমযোগ্যতাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নন-ক্যাডার এমনকি ব্যাংকিং খাতের সমপর্যায়ের পেশাজীবীরা যেখানে নিয়মিত পদোন্নতিসহ প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়ি সুবিধা, স্বল্প সুদে গৃহঋণ ও বিশেষ ভাতার মতো নানাবিধ দাফতরিক ও প্রেষণামূলক সুবিধা ভোগ করছেন, সেখানে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা দৃশ্যমান যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও যুগপৎ পদমর্যাদা ও আর্থিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনা মেধার চরম অবমূল্যায়ন ঘটাচ্ছে। বর্তমানে পদোন্নতি জট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সুপারনিউমারি পদ’ সৃষ্টির উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় স্থবির হয়ে রয়েছে। দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩৮তম ব্যাচ পর্যন্ত যোগ্য কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক সচিব তালুকদার বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগদান করলেও আজও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। অথচ অন্যান্য ক্যাডারের ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তারাও ইতোমধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাংক খাতে ২০২১ সালে যোগদানকারী অনেক কর্মকর্তাও পদোন্নতি লাভ করেছেন। অথচ আমরা দীর্ঘ আট বছর ধরে একই পদে কর্মরত রয়েছি। এই বৈষম্য আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।









