রাজধানীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানাপ্রাচীর ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের মধ্যে দুই নারী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমে গুরুতর আহত নাসিমা আক্তারকে (৫৫) উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাসিমা আক্তার বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার আল-আমিন তারুকদারের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তার ছেলে নাদিম জানান, পঙ্গু হাসপাতাল থেকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মরদেহ বাসায় নেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তার মা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত নন।
ঢামেকে মারা যাওয়া ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তার পরনে ছিল লাল চেক শার্ট ও চেক লুঙ্গি। তার পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজিয়া বেগম (৫৫), মনোয়ারা বেগম (৩৭) ও মোশাররফ (১৯)। রাজিয়ার পায়ে, মনোয়ারার হাতে ও বুকে এবং মোশাররফের পায়ে আঘাত লেগেছে। রাজিয়া ও মনোয়ারা ঢামেকে চিকিৎসাধীন।
রাজিয়ার ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, তার বোন মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় থাকেন। টিসিবির পণ্য কিনতে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।
মনোয়ারার ছেলে মোখলেস জানান, টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকা থেকে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে মিরপুরে এসেছিলেন তারা। পথে সীমানাপ্রাচীর ধসে তার মা ও ভাই আহত হন।
ঢামেকে আহতদের নিয়ে আসা মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের একটি বড় সীমানাপ্রাচীর হঠাৎ ধসে পড়ে। সে সময় পাশের ফুটপাত দিয়ে চলাচলকারী মানুষ হতাহতের শিকার হন।
তিনি বলেন, সীমানাপ্রাচীরের পাশেই টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাক থাকায় সেখানে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। দেয়াল ধসে তাদের কয়েকজন চাপা পড়েন।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।








