জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে কোনোভাবেই বেইমানি করা যাবে না।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পার্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে যাত্রাবাড়ীতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি ছিল সব রাজনৈতিক দলের। এরই মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এর কাজ শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটা একটা ঐতিহাসিক জায়গা। স্বৈরাচাররা কীভাবে আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে তা আমরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাইনি। অভ্যুত্থানের ছয় মাসও পার হয়নি, অথচ এখনই যারা সংসদের বিরোধী দল, তারা আন্দোলনের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”
আবদুস সালাম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে তাড়িয়ে গণতন্ত্রের পথে হাঁটা শুরু হয়েছে। এই যাত্রা ও অর্জন ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
যাত্রাবাড়ীর ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এখানে আমাদের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে। আমরা সেই রক্তের ত্যাগকে বৃথা যেতে দিতে পারি না।”
দেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা প্রশ্ন রাখেন— যারা দেশের সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চ ও রোডমার্চের নামে উসকানি দিচ্ছেন, তারা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চান?
বিএনপি কখনও জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেনি দাবি করে আবদুস সালাম বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সংকটময় সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নবীউল্লা নবীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।









