বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪

আজ ১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বের সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।

তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবারকে প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘায়ু নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও প্রবীণদের দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলো সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।

প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণদের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি।

নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার কাজও চলছে।

বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র; তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখলে সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা আরও সুরক্ষিত থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বার্ধক্য বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা (১ অক্টোবর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (১ অক্টোবর, ২০২৬)
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৪৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৪৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড
শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলা: গ্রেফতার ৩, একজনের স্বীকারোক্তি
শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলা: গ্রেফতার ৩, একজনের স্বীকারোক্তি
গ্রামে ঢুকে শিয়ালের তাণ্ডব, দেড় ঘণ্টায় আতঙ্ক ছড়িয়ে আহত ১১
গ্রামে ঢুকে শিয়ালের তাণ্ডব, দেড় ঘণ্টায় আতঙ্ক ছড়িয়ে আহত ১১
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশ পরিদর্শককে কল করে এমপি বললেন ‘এসব ফাইজলামি বাদ দেন’
পুলিশ পরিদর্শককে কল করে এমপি বললেন ‘এসব ফাইজলামি বাদ দেন’
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে কল করে যা বললেন মন্ত্রী
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে কল করে যা বললেন মন্ত্রী
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত
প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য, স্কুলশিক্ষক আটক
প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য, স্কুলশিক্ষক আটক
যে প্রাসাদে বন্দি ছিলেন নবাব সিরাজের পরিবারের সদস্যরা
যে প্রাসাদে বন্দি ছিলেন নবাব সিরাজের পরিবারের সদস্যরা