সরকারি আবাসন পরিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের পর সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসার বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশনার পর রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ভাড়াটিয়াদের দ্রুত বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বরাদ্দ পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন সেখানে ভাড়া থাকা শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা। হঠাৎ বাসা ছাড়ার নোটিশ পেয়ে অনেকে অন্যত্র চলে গেলেও কয়েকটি বাসায় এখনও ভাড়াটিয়া রয়েছেন। তাদেরও ১০ নভেম্বরের মধ্যে বাসা ছাড়তে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ভাড়া থাকা অধিকাংশ মানুষ বাসা ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার পর অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখনও কয়েকটি বাসায় ভাড়াটিয়া অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী নারী রয়েছেন। হঠাৎ বাসা ছাড়ার নির্দেশে বিকল্প আবাসন খুঁজে না পেয়ে তারা এখনও কলোনিতে আছেন। তবে ১০ নভেম্বরের মধ্যেই চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারাও।
সরকারি আবাসন পরিদফতরের নির্দেশনায় যা আছে
সরকারি আবাসন পরিদফতরের জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু বরাদ্দপ্রাপক তাদের নামে বরাদ্দ করা সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২’-এর পরিপন্থি।
এ অবস্থায় সরকারি আবাসন পরিদফতরের অধীন কোনও বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক কোনও কক্ষ অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যারা বাসা ভাড়া দিয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে যথানিয়মে বরাদ্দ করা বাসায় বসবাস করতে বলা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ৩১ অক্টোবরের পর কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়া দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে, যেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর বিধি ১৪(৩)-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হন্যে হয়ে বাসা খুঁজছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না তাসফিয়া। আবাসিক হলে আসন না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত দুই বছর ধরে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকতেন তিনি। কিন্তু সরকারি আবাসন থেকে সাবলেট ও ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশের পর তাকেও হঠাৎ বাসা ছাড়তে বলা হয়েছে। পূজার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে গত এক সপ্তাহ ধরে বাসা খুঁজছেন তিনি।
তামান্না বলেন, বাড়িওয়ালা (সরকারি আবাসনে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই বাসা ছাড়তে বলেছেন। পূজার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঢাকায় ফিরতে একটু দেরি হয়েছে। এখন হঠাৎ করে কীভাবে বাসা পরিবর্তন করবেন, জিনিসপত্র কোথায় সরাবেন কিংবা কোথায় যাবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
তিনি বলেন, বাড়িওয়ালাকে এই মাস পর্যন্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই থাকতে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেছেন। তাই উপায় না দেখে বাসা খুঁজছেন তিনি।
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহনাজ প্রীতি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় সাবলেট থাকেন। আজিমপুর সরকারি কলোনিতে থাকার বড় সুবিধা ছিল নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান। কিন্তু এখন সেটি ছেড়ে আজিমপুরের একটি মেসে উঠতে হচ্ছে তাকে।
তিনি আরও বলেন, তার সেমিস্টার ফাইনাল চলছে। হঠাৎ নতুন পরিবেশে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য হবে। এত অল্প সময়ে বাসা খুঁজে পাওয়াও মুশকিল। অনেক অনুনয়-বিনয় করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও থাকার সুযোগ নেই। তার সঙ্গে একই বিভাগের আরেক সিনিয়র থাকেন। তারা দুজনই আজিমপুরের একটি মেসে উঠছেন।
বাসা ছাড়তে যৌক্তিক সময় দেওয়ার দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকটের মধ্যে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার থেকে স্বল্প সময়ের নোটিশে সাবলেট ও ভাড়াটে শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা করতে শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়ার জন্য অন্তত এক মাস সময় দেওয়াসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে ‘জাতীয় ছাত্রসভা’।
জাতীয় ছাত্রসভার সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল সংসদের এজিএস শিমু আক্তার বলেন, আবাসনসংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় সাবলেট নিয়ে থাকতে বাধ্য হন। বিশেষ করে নবীন ও নারী শিক্ষার্থীরা হলে আসন না পেয়ে শুরুতেই এমন বিকল্প আবাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে সব সাবলেট ও ভাড়াটেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক, অযৌক্তিক এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
শিমু আক্তার আরও বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে ১ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ সময়ে হঠাৎ বাসা ছাড়ার নোটিশে শিক্ষার্থীদের সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এত অল্প সময়ে নিরাপদ বিকল্প আবাসন খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতীয় ছাত্রসভার আরেক সংগঠক রেজওয়ান আহমেদ বলেন, সরকারি বাসভবনে সাবলেট থাকা আইনগতভাবে ঠিক না হলেও কাউকে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য ন্যূনতম মানবিক সময় দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা সেখানে অনির্দিষ্টকাল থাকতে চান না; বরং নতুন বাসা খুঁজে নেওয়ার জন্য যৌক্তিক সময় চান। অনেকে এখন আতঙ্কে বাসায় ফিরতে পারছেন না এবং পরীক্ষা চলার মধ্যেও অন্যের আশ্রয়ে থাকতে হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রসভার পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো, শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়ার জন্য মানবিক বিবেচনায় অন্তত এক মাস সময় দিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি, চাপ প্রয়োগ বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আবাসনসংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রস্তাবিত হল নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।
জমে উঠেছে আজিমপুরের ছাত্রী হোস্টেলগুলো
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ভাড়া থাকা নারী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা আবার আজিমপুরের বিভিন্ন ছাত্রী হোস্টেলে ফিরছেন। এতে হোস্টেলগুলোতে আসন খোঁজার চাপ বেড়েছে। জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীরা হোস্টেলে আসন খুঁজতে শুরু করেছেন। সরকারি আবাসিক কলোনিতে সাবলেট থাকা ছাত্রীদের বাসা ছাড়ার নোটিশের পর হোস্টেলগুলোতে তাদের আসন খোঁজাখুঁজি বেড়েছে।
আজিমপুরের একটি হোস্টেল পরিচালনা করেন শারমিন আক্তার। পেশায় তিনি হোস্টেল ব্যবসায়ী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের যেসব নারী শিক্ষার্থী হলে আসন পেতেন না, তারা আজিমপুরের হোস্টেলে থাকতেন। কিন্তু আজিমপুরে নতুন সরকারি কলোনি গড়ে ওঠার পর সেখানকার বাসিন্দারা সাবলেট ও ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে শুরু করেন। এরপর গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ছাত্রী হোস্টেল ছেড়ে কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলোনি পরিদর্শন করার পর থেকেই ছাত্রীদের বাসা ছাড়ার মৌখিক নোটিশ আসতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর ছাত্রীরা আবার হোস্টেলে আসন খুঁজতে শুরু করেন। গত সপ্তাহ থেকে হোস্টেলে ওঠার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এত বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলা নারীদের হোস্টেলগুলো এর মধ্য দিয়ে আবার জমজমাট হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ভাড়া থাকা অধিকাংশ মানুষ বাসা ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার পর অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখনও কয়েকটি বাসায় ভাড়াটিয়া অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী নারী রয়েছেন। হঠাৎ বাসা ছাড়ার নির্দেশে বিকল্প আবাসন খুঁজে না পেয়ে তারা এখনও কলোনিতে আছেন। তবে ১০ নভেম্বরের মধ্যেই চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারাও।
সরকারি আবাসন পরিদফতরের নির্দেশনায় যা আছে
সরকারি আবাসন পরিদফতরের জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু বরাদ্দপ্রাপক তাদের নামে বরাদ্দ করা সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২’-এর পরিপন্থি।
এ অবস্থায় সরকারি আবাসন পরিদফতরের অধীন কোনও বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক কোনও কক্ষ অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যারা বাসা ভাড়া দিয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে যথানিয়মে বরাদ্দ করা বাসায় বসবাস করতে বলা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ৩১ অক্টোবরের পর কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়া দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে, যেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর বিধি ১৪(৩)-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হন্যে হয়ে বাসা খুঁজছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না তাসফিয়া। আবাসিক হলে আসন না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত দুই বছর ধরে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকতেন তিনি। কিন্তু সরকারি আবাসন থেকে সাবলেট ও ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশের পর তাকেও হঠাৎ বাসা ছাড়তে বলা হয়েছে। পূজার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে গত এক সপ্তাহ ধরে বাসা খুঁজছেন তিনি।
তামান্না বলেন, বাড়িওয়ালা (সরকারি আবাসনে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই বাসা ছাড়তে বলেছেন। পূজার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঢাকায় ফিরতে একটু দেরি হয়েছে। এখন হঠাৎ করে কীভাবে বাসা পরিবর্তন করবেন, জিনিসপত্র কোথায় সরাবেন কিংবা কোথায় যাবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
তিনি বলেন, বাড়িওয়ালাকে এই মাস পর্যন্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই থাকতে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেছেন। তাই উপায় না দেখে বাসা খুঁজছেন তিনি।
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহনাজ প্রীতি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় সাবলেট থাকেন। আজিমপুর সরকারি কলোনিতে থাকার বড় সুবিধা ছিল নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান। কিন্তু এখন সেটি ছেড়ে আজিমপুরের একটি মেসে উঠতে হচ্ছে তাকে।
তিনি আরও বলেন, তার সেমিস্টার ফাইনাল চলছে। হঠাৎ নতুন পরিবেশে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য হবে। এত অল্প সময়ে বাসা খুঁজে পাওয়াও মুশকিল। অনেক অনুনয়-বিনয় করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও থাকার সুযোগ নেই। তার সঙ্গে একই বিভাগের আরেক সিনিয়র থাকেন। তারা দুজনই আজিমপুরের একটি মেসে উঠছেন।
বাসা ছাড়তে যৌক্তিক সময় দেওয়ার দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকটের মধ্যে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার থেকে স্বল্প সময়ের নোটিশে সাবলেট ও ভাড়াটে শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা করতে শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়ার জন্য অন্তত এক মাস সময় দেওয়াসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে ‘জাতীয় ছাত্রসভা’।
জাতীয় ছাত্রসভার সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল সংসদের এজিএস শিমু আক্তার বলেন, আবাসনসংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় সাবলেট নিয়ে থাকতে বাধ্য হন। বিশেষ করে নবীন ও নারী শিক্ষার্থীরা হলে আসন না পেয়ে শুরুতেই এমন বিকল্প আবাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে সব সাবলেট ও ভাড়াটেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক, অযৌক্তিক এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
শিমু আক্তার আরও বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে ১ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ সময়ে হঠাৎ বাসা ছাড়ার নোটিশে শিক্ষার্থীদের সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এত অল্প সময়ে নিরাপদ বিকল্প আবাসন খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতীয় ছাত্রসভার আরেক সংগঠক রেজওয়ান আহমেদ বলেন, সরকারি বাসভবনে সাবলেট থাকা আইনগতভাবে ঠিক না হলেও কাউকে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য ন্যূনতম মানবিক সময় দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা সেখানে অনির্দিষ্টকাল থাকতে চান না; বরং নতুন বাসা খুঁজে নেওয়ার জন্য যৌক্তিক সময় চান। অনেকে এখন আতঙ্কে বাসায় ফিরতে পারছেন না এবং পরীক্ষা চলার মধ্যেও অন্যের আশ্রয়ে থাকতে হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রসভার পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো, শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়ার জন্য মানবিক বিবেচনায় অন্তত এক মাস সময় দিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি, চাপ প্রয়োগ বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আবাসনসংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রস্তাবিত হল নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।
জমে উঠেছে আজিমপুরের ছাত্রী হোস্টেলগুলো
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ভাড়া থাকা নারী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা আবার আজিমপুরের বিভিন্ন ছাত্রী হোস্টেলে ফিরছেন। এতে হোস্টেলগুলোতে আসন খোঁজার চাপ বেড়েছে। জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীরা হোস্টেলে আসন খুঁজতে শুরু করেছেন। সরকারি আবাসিক কলোনিতে সাবলেট থাকা ছাত্রীদের বাসা ছাড়ার নোটিশের পর হোস্টেলগুলোতে তাদের আসন খোঁজাখুঁজি বেড়েছে।
আজিমপুরের একটি হোস্টেল পরিচালনা করেন শারমিন আক্তার। পেশায় তিনি হোস্টেল ব্যবসায়ী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের যেসব নারী শিক্ষার্থী হলে আসন পেতেন না, তারা আজিমপুরের হোস্টেলে থাকতেন। কিন্তু আজিমপুরে নতুন সরকারি কলোনি গড়ে ওঠার পর সেখানকার বাসিন্দারা সাবলেট ও ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে শুরু করেন। এরপর গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ছাত্রী হোস্টেল ছেড়ে কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলোনি পরিদর্শন করার পর থেকেই ছাত্রীদের বাসা ছাড়ার মৌখিক নোটিশ আসতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর ছাত্রীরা আবার হোস্টেলে আসন খুঁজতে শুরু করেন। গত সপ্তাহ থেকে হোস্টেলে ওঠার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এত বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলা নারীদের হোস্টেলগুলো এর মধ্য দিয়ে আবার জমজমাট হয়ে উঠেছে।