করোনাকালেও মহল্লার চায়ের দোকানে বসছে আড্ডা

হাসনাত নাঈম
২১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৫১আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০০:১২

করোনাকালেও মহল্লার চায়ের দোকানে বসছে আড্ডা

রাজধানীর পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে চুপিসারে জমে উঠেছে আড্ডা। ছোট ছোট দোকানে ৫-৬ জন একসঙ্গে বসে চা পান করছেন আর কথা হচ্ছে মহামারি করোনা নিয়েই। নানা জন, নানা মত দিচ্ছেন। অথচ করোনা প্রতিরোধে সরকার যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেছে, সেটাই মানছেন না তারা। ছবি তুলতে গেলেই নামিয়ে দিচ্ছে দোকানের শাটার। চা পান করতে আসা সাধারণ মানুষরা বলছেন, ‘আমরা তো বেশি সময়ের জন্য আসিনি, শুধু এক কাপ চা খেতে এসেছি। চা শেষ করে আবার চলে যাবো। এতে তেমন কিছু হবে না।’ আর দোকানিরা বলছে, ‘আমরা দুইটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি। পুলিশ আসলে আবার বন্ধ করে দেই।’ এভাবেই চোর-পুলিশ খেলার মতো করে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলো চলছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো সচেতনতার অভাব ছাড়া কিছুই নয়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ, রায়েরবাজার, হাজারীবাগ, জিগাতলা, এলিফ্যান্ট রোড ঘুরে দেখা যায়, মহল্লার গলির ভেতরের চায়ের দোকানগুলো খোলা। সেখানে বসে চায়ের কাপ হাতে আড্ডা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু তা-ই নয়, উঠতি বয়সী যুবকদের দেখা গেছে গলির ভেতরে। তারা আড্ডা দিচ্ছে, আবার কখনও একসঙ্গে ঝাঁকবেঁধে ঝাল মুড়ির দোকানে ভিড় করছে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকানগুলোও শহরে চুপিসারে ঘুরছে।

জাফরাবাদে কথা হয় চায়ের দোকানি আলতাফের সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গলির ভেতরের দোকান, সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখি। তেমন কোনও ঝামেলা হয় না। এর মাঝে যদি পুলিশ আসে, তখন খবর পেয়ে দোকান বন্ধ রাখি।’ হাজারীবাগে কথা হয় দোকানি আশরাফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দোকান চালু না রেখে আর কী করবো বলেন। জীবনের তাগিদেই দোকান খুলতে হয়, না হলে না খেয়ে মরতে হবে। টুকটাক যা বেচাকেনা হয় তা দিয়ে বাজার করে আবার বাসায় চলে যাই।’ দোকানে চা পান করতে আসা নিম্ন আয়ের মানুষরা করোনাভাইরাসকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, ‘সারা দিন ঘরে থেকে ভালো লাগে না, চা খেয়েই চলে যাবো।’

করোনাকালেও মহল্লার চায়ের দোকানে বসছে আড্ডা

দোকানে চা পানরত অবস্থায় কথা হয় মুসলিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সারা দিন বাসায় থেকে আর ভালো লাগে না। তাই একটু চা খেতে এসেছি। চা খেয়েই চলে যাবো। এই সময়ে করোনা ধরবে না। আমরা তো বাইরে কোথাও যাই না।’

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যত বেশি দোকান খোলা থাকবে, তত বেশি করোনার ঝুঁকি বাড়বে। এই মুহূর্তে প্রশাসনের সচেতনতা তৈরি করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কারণ, এরকম বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে যদি চা খাওয়ার জন্য বাইরে যেতে হয়, তাহলে আমি মনে করবো সচেতনতার অভাবটাই বেশি। যেখানে মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে চা খাওয়াটা তো জীবনের জন্য জরুরি না। প্রশাসন মানুষদের সচেতন করছে, প্রয়োজনে জরিমানা পর্যন্ত করছে। তারপরও যদি মানুষ অসচেতন হয়, তাহলে আর কী করবে তারা।’ 

করোনাকালেও মহল্লার চায়ের দোকানে বসছে আড্ডা

/এমআর/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম