দীর্ঘ ২২ বছর পরে গুলিস্তান জাকের সুপার মার্কেটের স্বঘোষিত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর জিম্মিদশা থেকে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মার্কেটের ছাদে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাকের সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা নির্বাচন করে দেলুর হাত থেকে মার্কেটকে মুক্ত করার ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে গুলিস্তান জাকের সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রাখছেন এই মার্কেটের স্বঘোষিত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু। ব্যবসায়ীরা জানান দেলু অবৈধভাবে নিজেকে সভাপতি দাবি করে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সাধারণ সভায় বাংলাদেশ মার্কেট ফেডারেশন সভাপতি ড. শাহীন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আবেদন করেছি। মেয়র বলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি তিনি অগ্রধিকার দেবেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একটা ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই ব্যবসায়ীদের পাশে আছি। যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন দোকান বরাদ্দ নেওয়ার জন্য কোনও টাকা পয়সা লাগবে না। যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তিনি নিজেই আবেদন করতে পারবেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নিয়ে মেয়রের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে। বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে আহবায়ক কমিটি করে আগমাী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ মার্কেট ফেডারেশের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আলম আগামী রমজানের আগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একটা ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমাম মেয়ের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য আবেদন দেওয়া হয়েছে। এই সভার মাধ্যমে সামনের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে ব্যবসায়ীদের সব সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নেওয়া বন্ধসহ সব অনিয়ম বন্ধ করা হবে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ী মালিকদের সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর মামুন, জাকের মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকারী সভাপতি শহীদুল আল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ফেডারেল সংগঠনের ইব্রাহিম।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ মার্চ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন মাহাবুব। সদস্য সচিব হান্নান ও সদস্য মামুন তালুকদার।








