ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল নিপীড়নমূলক আইন অনতিবিলম্বে বাতিল, জনজীবন ও পারিবারিক জীবন— উভয়ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণে সংবিধানে ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটি।
শুক্রবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে— জাতিসংঘের নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদের আলোকে বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন করা, যেমন- ধর্ম, জাতি, গোষ্ঠী, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল সন্তানের জন্য সমান উত্তরাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ চাই। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত মেনে নেওয়ার মানসিকতা- উভয়ই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। গণতন্ত্র কেবল শাসন ব্যবস্থায় নয়, সর্বত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে হবে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি হ্রাসে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবারে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অবসান, শাসনব্যবস্থায় নারী ও প্রান্তিক সকল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের পথ সুগম করতে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ, পাঠ্যপুস্তকে নারীর বিভিন্ন ভূমিকার ইতিবাচক উপস্থাপন, পথেঘাটে, গণ-পরিবহনে নারীকে উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কর্মক্ষেত্রে সকল প্রকার যৌন হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০- এ অনুস্বাক্ষর দান। ন্যায্যবিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগকে জনমানুষের কল্যাণমুখী ও আস্থাভাজন করা। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বিচারক ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির গণতন্ত্রের দাবি নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংহতি জানান গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীর নিরাপত্তায় সরকার অনেকটাই উদাসীন। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বিষয়টির সুরাহা করতে হবে।’ আইনটি সংস্কার নয় বাতিলের দাবি জানান তিনি।
এসময় সংহতি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য নতুন আইন প্রয়োজন।’ সরকারের প্রতি দাবি তিনি জানান, আইনটি বাতিলের জন্য । বাতিল না হলে রাজপথে থাকবেন তারা। তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নিরাপদ হলেই সমাজ ও রাষ্ট্র এর সুফল পাবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমাদের প্রতিবাদের অন্যতম বিষয় বাকস্বাধীনতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে। এই আইন যে অগণতান্ত্রিক এবং সকলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ, তার উদাহরণ আমরা দেখেছি— গতবছর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। যেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার এক নারীকে ভয় দেখাতে তার ওপরে সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও নিপীড়নের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আমাদের অতীতের সকল সাফল্য অর্জন ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রার পথ সুগম করতে প্রয়োজন যথাযথ গণতন্ত্র। এর জন্য আমাদের লড়াই করে যেতে হবে।
এর আগে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির আয়োজনে ৫০টি সংগঠন, জোট, নেটওয়ার্ক এবং ফোরাম একত্রিত হয়ে অবদমনের প্রতিবাদে গণতন্ত্রের দাবি নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় পদযাত্রা করে। পদযাত্রাটি সকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিখা চিরন্তনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের নারীরা।
এছাড়া সারাদেশে আরও ১০০টি স্থানে একই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন







