সংকটেও চালু হচ্ছে না ডিএসসিসির করোনা হাসপাতাল

শাহেদ শফিক
০৯ জুলাই ২০২১, ১৯:৪৭আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ১৬:৪৫

সব প্রস্তুতি থাকার পরেও ডাক্তার ও নার্স না দেওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) করোনা ডেডিকেটেড মহানগর জেনারেল হাসপাতাল। অথচ উত্তর সিটি করপোরেশনের মালিকানাধিন ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালসহ অন্যান্য সব হাসপাতালগুলোর সব আসন ও আইসিউ বেড ফুরিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে হারে রোগীর চাপ বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে। তাই দ্রুত সময়ে মধ্যে মহানগর হাসপাতালটি চালু করা উচিত।

রাজধানীর সব চেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের প্রায় সব আসন ভরে যাওয়ার পথে রয়েছে। যে হারে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা বাহির থেকে আক্রান্ত রোগী ঢাকায় আসছে তাতে আগামী তিন চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি ‘খারাপ’ হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএনসিসি ডেডিকেটে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে যে হারে রোগী আসছে তাতে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আমাদের সব বেড ও আইসিইউ পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন পরিস্থিতি সংকটের দিকে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকার বাইরে থেকে যেসব রোগী আছে তাদের ৫০ শতাংশকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। বাকিদের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির বলেন, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত আমাদের এখানে ৪০৯ জন ভর্তি আছে। এর মধ্যে ১৩৯জন আইসেইউতে রয়েছে। বাকিরা এইচডিইউতে রয়েছে। গতকাল ৭১ জন ভর্তি করেছি। যারা আসছে তারা যথেষ্ট সিরিয়াস অবস্থায় আসছে।

তিনি জানান, এই হাসপাতালটি এক হাজার বেডের। এরমধ্যে ৫০০ বেড হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযুক্ত। বাকি ৫০০ সিলিন্ডার বেইজড এরিয়া। প্রতিটি আলাদা আলাদা রুম। প্রতিটি রুমে একজন রোগী রাখা যাবে। এই পরিস্থিতিতে ২১২ বেডের আইসিইউ থেকে আজকের মধ্যে ২০০টির মতো ভরে গেছে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে এই আইসিইউগুলো ভরে যাবে।

এদিকে নগরীতে অধিকাংশ হাসপাতালে আসন ফাকা না পেয়ে রোগীকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়োদৌড়ি করছেন রোগীর স্বজনরা। কিন্তু এ অবস্থায়ও প্রায় সব প্রস্তুতি থাকার পরেও এখনও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকনাধীন মহানগর জেনারেল হাসাপতালটি চালু করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খোদ সিটি করপোরেশনই। এরই মধ্যে রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি মিলে ৪৩টি হাসপাতালের মধ্যে ১৫টি হাসপাতালে বেড়ে চেয়ে অতিরিক্ত রোগী রয়েছে।

জানতে চাইলে হাসপতালটির পরিচালক প্রকাশ চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা কিছু ডাক্তার আর নার্স চেয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আমরা হাসপাতালে করোনা চিকিৱসা শুরু করবো।

গত ২২ এপ্রিল ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু করা যাবে। সেসময় প্রায় সব প্রস্তুতিও শেষ করা হয়। কিন্তু এখনও হাসপাতালটিতে করোনা চিকিৱিসা চালু করা হয়নি।

গতবছর প্রথম শনাক্তের পরই ১৫০ শয্যার হাসপাতালটির ১০০ শয্যা করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়। তখন হাসপাতালের অন্য চিকিৎসা সেবাও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এবছর মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ প্রকট রূপ নিলেও হাসপাতালটির করোনা বিভাগ চালু হয়নি।

জানা গেছে, গতবছর মহামারি দেখা দেওয়ার পর পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের গোড়ায় ডিএসসিসির মহানগর জেনারেল হাসপাতালটির নিয়মিত চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে শুরু হয় করোনার চিকিৎসা। ওই বছরের ২৫ মার্চ করোনা-আউটডোর চালু করেন তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ৮ এপ্রিল শুরু হয় ইনডোর ইনফেকশন ডিপার্টমেন্ট। এই সময়ে ৪৯৮ জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থও করে তোলা হয়। সাড়ে ৫ হাজারের মতো রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয় আউটডোরে।

এখন করোনার চিকিৎসা চালু হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে হাসপাতালটির দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকরা জানান, আমরা প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাচ্ছি না। আমি এবং আমাদের মেয়রও যোগাযোগ করেছেন। আমরা কিছু ডাক্তার ও নার্স চেয়েছি। কিন্তু সেগুলো এখনও দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ৫টি ভেন্টিলেটর এবং ১৫টি হাইফ্লো অক্সিজেন বেড তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ ওয়ার্ডেও ১০টির মতো হাই ফ্লো অক্সিজেন বেড থাকবে। অক্সিজেন সাপ্লাই দিলেই কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক মাস আগে মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। গতবছর যেখানে চাহিদার আগেই আমাদের ডেকে ডাক্তার-নার্স দেওয়া হয়েছে, সেখানে এবছর চাহিদা দেওয়ার পরও পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালটিকে পুনরায় করোনা ডেডিকেটেড বানাতে ৫৬ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ৬০ জন নার্স চেয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ৪০ জন ডাক্তার এবং ৪০ জন নার্স এবং আইসিইউর জন্য ১৬ জন ডাক্তার ও ২০ নার্স কাজ করবেন। এ ছাড়া কিছু টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ড বয় ও ক্লিনারের চাহিদাও দেওয়া হয়েছে। এসংখ্যক জনবল না দিলেও আমরা বলেছি কিছু কম দিলেও আমরা চালু করত পারবো। কিন্তু আমরা চাহিদা অনুযায়ী জনবল পাচ্ছি না। আমাদেরকে নির্দেশ দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চালু করতে পারবো।

আরও পড়ুন: ঢামেক-সোহরাওয়ার্দীসহ সরকারি ৮ হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ

 

 

/এফএএন/আপ-এনএইচ/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের