বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারের আশ্বাস পেলেও কোনও বিচার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইস্কনের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে 'সম্মিলিত সনাতন পরিষদে’র আয়োজনে ৪০টি সংগঠনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ হামলায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশ ইস্কনের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, "আমাদের সম্মলিত একটি দাবি হলো, যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে, দোকান-পাট লুটপাট করেছে, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে অতিতাড়াতাড়ি বিচার করতে হবে। এর আগেও সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে তার বিচার হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যারা সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়েছে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি তাদের বিচার না করা হয়, আমরা রাজপথ ছাড়ব না।"
বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “সারা দেশে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।”
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে আমাদের দাবি হলো ‑ সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এবং যারা এ ধরনের অন্যায়-অপরাধ করবে তাদের বিশেষ ট্রাইবুনালে দ্রুত বিচার করতে হবে এবং সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা, মহানাম সম্প্রদায় (বাংলাদেশ), শ্রী স্বামী ভোলাগিরি আশ্রম, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আচার্য বিবেকানন্দ গোস্বামী আন্তর্জাতিক সেবাশ্রম (বাংলাদেশ অধ্যায়), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু পরিষদ, শারদাঞ্জলি ফোরামসহ ৪০টি সংগঠন বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করে। এরপর মশাল মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে যায় তারা।
সমাবেশে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সদস্য সচিব প্রদীপ কুমার আচার্যের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সেবাশ্রম কমিটির সভাপতি সুশীল পাইক, বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় দেবনাথসহ আরও অনেকে।







