দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে হামলা করে খাদ্যসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ আলমগীরের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় খাদ্য বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনের দুজন স্বেচ্ছাসেবী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন দুস্থ অসহায় গরিব পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছিল।
ফাউন্ডেশনের অভিযোগ, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি বানচাল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ আলমগীরের অনুসারী। এ সময় তারা গরিবের অন্তত ৫০ বস্তা খাবার লুট করে নিয়েছে। খাবার না পেয়ে ফিরে গেছে হতদরিদ্র লোকজন।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ থেকে পুরান ঢাকার ৩০টি ওয়ার্ডে ৬ হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণে এই কর্মসূচি শুরু করে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫টি ওয়ার্ডে তিন হাজার পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর দুইটায় পুরান ঢাকার বেচারাম দেউরি ও বিকাল সাড়ে চারটায় নাজিমউদ্দিন রোডে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাদেক মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেচারাম দৈউরির পর নাজিমউদ্দিন রোডে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়। শৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে সবকিছু চলছিল। কিন্তু বিকাল পাঁচটার দিকে হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কর্মসূচিতে হামলা করেন ডিএসসিসির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলমগীরর অনুসারী মো. আরিফ হোসেন, মো. সাদী, মো. রিহাদ, রেজাউল করিম দিপুসহ ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী।
‘এতে ফাউন্ডেশনের ওয়ার্ড সমন্বয়কারী তোফাজ্জল হোসেন জয়, স্বেচ্ছাসেবক রায়হান আলম, তামজিদ হোসেন আরিয়ান আহত হন। এর মধ্যে তোফাজ্জলের মাথা ফেটে যায়। তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রায়হান ও তামজিদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।’
ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাদেক মিঠু আরও বলেন, ‘তারা সারা বছর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসহ নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রমজানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও কারণ ছাড়াই কর্মসূচিতে হামলা করা হয়েছে। এখন আমরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এদিকে, কাউন্সিলর শেখ আলমগীরকে গ্রেফতারের দাবিতে বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা আলমগীরকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
তবে অভিযোগটির বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও কাউন্সিলর শেখ আলমগীর ফোন ধরেননি।








