জলে ভাসা ঈদ তাদের

আতিক হাসান শুভ
০২ মে ২০২২, ০৯:৩০আপডেট : ০২ মে ২০২২, ০৯:৩০

একপাশে যদি থাকে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষজনের ছবি, অন্যপাশে যথারীতি বিষাদের ছায়াঢাকা কিছু মুখ। সেই মুখের তালিকায় আছেন বুড়িগঙ্গার নৌ-শ্রমিকরাও। ঈদ নিয়ে তাদের মনে ঢেউ ভাঙে না। যাত্রী পারাপার করে কিছু বাড়তি আয় হলেই খুশি তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, রাজধানীর সদরঘাট এলাকার বুড়িগঙ্গার তীরে অন্তত দুইশ’ নৌ-শ্রমিকের ঈদ এবার পানিতেই কাটবে।

বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে যাদের জীবিকা, তাদের অনেকের পরিবার থাকে দূরে। বাড়তি আয়ের আশায় সেই মানুষগুলোর ঈদ কাটবে নৌকায়। এমনও অনেকে আছেন, যাদের ডাঙায় নেই ঘর, নৌকাই আশ্রয়।

সদরঘাট টার্মিনালেও আছেন এমন শত শত শ্রমিক; যাদের জীবন কাটছে বুড়িগঙ্গায় ভেসে। ঈদ বা অন্য কোনও উৎসব তাদের স্পর্শই করে না।

পাঁচ বছরের শিশু ও স্বামীকে নিয়ে এক দশক ধরে নৌকায় বাস করছেন রত্না বেগম (২৮)। দিনের বেলায় কাঁচাবাজার কুড়িয়ে সেগুলো বিক্রি করে রাত কাটে নৌকাতেই।

স্বামী বেলাল হোসেন নৌকার মাঝি। হাতে সমস্যার কারণে বেশি নৌকা বাইতে পারেন না। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় পরিবারটির জীবন কাটছে নৌকায়।

রত্না বললেন, ‘একসময় ভিক্ষা করতাম। বিয়ের পর কাজকর্ম শুরু করি। আমাগো জীবনে ঈদ আসে নাই। এবার বাচ্চাটার জন্য নতুন জামা কিনছি। ও তো আর ঈদ বুঝে না। ওরে একটু সেমাই টেমাই রাইন্ধা দিমু। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া অনেক সুখেই আছি।’

৩৫ বছর ধরে নৌকা চালাচ্ছেন আবদুল কুদ্দুস (৬৮)। স্বাধীনতার পর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসেছিলেন। প্রথম দিকে রিকশা চালালেও আশির দশক থেকে ঠাঁই করে নিয়েছেন বুড়িগঙ্গায় কোলে।

দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। সবাই বিয়ে করে যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আবদুল কুদ্দুস যাদের জন্য জীবনটা নৌকায় পার করে দিলেন, তারা আজ ঈদেও তার খোঁজ রাখে না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে কুদ্দুস জানালেন, ‘জীবনের তিন ভাগের দুই ভাগ ছেলেমেয়েদের সুখের জন্য রোজগার করেছি। ঈদের সময় আগে আনন্দ ছিল। এখন আর তা নাই। সন্তানরা তাদের মতো ঈদ করছে। আমি আমার মতো।’

সাহাব উদ্দিন (৪৮) নামের আরেক নৌকা চালক ২৬ বছর ধরে বুড়িগঙ্গায়। বললেন, ‘ঈদ তো সবার জন্য আনন্দ নিয়ে আসে না, কারও জন্য বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে আসে। সবাইরে নতুন জামা কিনে দিতে হয়। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচাও অনেক। এখন আর আগের মতো ইনকামও নাই। সরকারি লঞ্চ সার্ভিস আসার পর আমাদের মাঝিদের কপাল পুড়ছে। আগে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা আয় হইতো। এখন দিনে ৩০০ টাকা পাইতেও কষ্ট। ঈদে চালাইলে একটু বেশি ইনকাম করা যা। এই জন্য এইবার ঈদ নৌকাতেই যাইবো।’

কথা বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত হয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালনের স্মৃতির কথা জানালেন মাঝি মো. বুলবুল আহমেদ (৫৬)। বললেন, ‘গত বিশ বছর এখানে নৌকা চালাই। হাতেগোনা কয়েকবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারছি। বেশিরভাগ সময় নৌকাতেই ঈদ যায়। এখন তো জিনিসপত্রের যে দাম, সংসারে টানাটানি।’

/এফএ/
সম্পর্কিত
খিলগাঁওয়ের রয়েল এইড হাসপাতালে আগুন
একদিনের অভিযান নয়, পরিচ্ছন্নতা চলমান প্রক্রিয়া: ডিএনসিসি প্রশাসক
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়ালের বাজিমাত, জয় দিয়ে মরিনহো যুগের নতুন সূচনা 
শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়ালের বাজিমাত, জয় দিয়ে মরিনহো যুগের নতুন সূচনা 
শিক্ষক ও তার পরিবারকে হত্যা করলো কারা, কারণ কী 
শিক্ষক ও তার পরিবারকে হত্যা করলো কারা, কারণ কী 
দুদিন ধরে বোনকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিলেন না, বাসায় এসে দেখলেন সবাই লাশ
দুদিন ধরে বোনকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিলেন না, বাসায় এসে দেখলেন সবাই লাশ
এক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার, বাসা ঘিরে রেখেছে সিআইডি
এক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার, বাসা ঘিরে রেখেছে সিআইডি
সর্বাধিক পঠিত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’