আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের বিশেষ মশা নিধন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ নগর ভবনের হলরুমে ২য় পরিষদের ১৭তম করপোরেশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে থাকবে। পুরো মাসজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে মশা নিধনে কাজ করবে। অসময়ে ঝড়-বৃষ্টির ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাঠে কাজ করতে হবে। মশার প্রজননক্ষেত্র খুঁজে ধ্বংস করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এডিসের পাশাপাশি কিউলেক্স মশাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোথাও পানি বা ময়লা জমতে দেওয়া যাবে না। ময়লা বা পানি জমে থাকলে অথবা এডিসের লার্ভার উৎস পেলে কাউন্সিলররা ছবি তুলে লোকেশন উল্লেখ করে ডিএনসিসির অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করবেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিবে।
এছাড়াও ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাউন্সিলরদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ দিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, মিরপুর দশ নম্বর গোল চত্বরের মতো স্মার্ট হকার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সমগ্র ডিএনসিসি এলাকায় চালু করা হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন নির্দিষ্ট হকাররা বিকাল ৪টার পর থেকে ফুটপাতে বসবে। অন্য সময় ফুটপাতে কোনও হকার বসতে পারবে না। ফুটপাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
ডিএনসিসি মেয়র আরও বলেন, নগরে বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য হাট-বাজার গড়ে উঠেছে। এসব হাট-বাজারের অনুমোদন নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত বাজারগুলো ডিএনসিসি অধিগ্রহণ করে পরিচালনা করবে। সঠিক তদারকির মাধ্যমে এগুলো ব্যবস্থাপনা করা হবে। হাট-বাজারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
খাল রক্ষায় নগরবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর থেকে সেগুলো উদ্ধারের কাজ করে যাচ্ছি। খালগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা দেখেছি—বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও অন্যান্য ভবনের পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের সংযোগলাইন সরাসরি সারফেস ড্রেন ও খালে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খালগুলো দূষিত হচ্ছে। খালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে প্রতিটি বাসা-বাড়িতে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পয়োবর্জ্যের লাইন সারফেস ড্রেন অথবা খালে দেওয়া যাবে না।
ডিএনসিসিতে বেওয়ারিশ কুকুর ও অন্যান্য পোষা প্রাণীর চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য পশু হাসপাতাল এবং গাছের চিকিৎসার জন্য বৃক্ষ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
সভায় ডিএনসিসির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, ডিএনসিসির কাউন্সিলর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









