‘নিন্দুকেরা নিন্দার জায়গায় থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৩ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৫৬আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৫৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, নিন্দুকেরা নিন্দা করতেই থাকবে, তারা নিন্দার জায়গায় থেকে যাবে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পথচলা অব্যাহত রেখে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তিনি জনগণের জন্য কাজ করে যাবেন। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকালে ধানমন্ডি ২/এ রোডে ‘ধানমন্ডি আন্ডারগ্রাউন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা করেন।

মেয়র তাপস বলেন, ‘যে যাই বলুক, যত রকম বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করুক, প্রধানমন্ত্রী কিন্তু তার লক্ষ্য থেকে একটুও সরে দাঁড়াননি। তিনি তার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছেন। নিন্দুকের নিন্দার মাঝেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে, মেট্রোরেলের কাজ গতিশীলভাবে চলছে। অচিরেই মেট্রোরেল চালু হবে। নিন্দুকের নিন্দার মাঝেই কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল শুরু হয়ে যাচ্ছে। নিন্দুকের নিন্দার মাঝেই আমরা ঢাকা শহরের এই তারের জঞ্জাল সরিয়ে ভূগর্ভস্থ তারের সংযোগে রূপান্তরিত করছি। নিন্দুকেরা নিন্দা চালিয়ে যাবে। তারা যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় থেকে যাবে। পরবর্তী নির্বাচনেও তারা নিন্দার জায়গায় থেকে যাবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাবে। ঢাকা এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

‘ধানমন্ডি আন্ডারগ্রাউন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’-এর উদ্বোধন করেন মেয়র তাপস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছেন উল্লেখ করে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘১৪ বছরের মধ্যে একটি দেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করার নজির সারা বিশ্বে আর নেই। মালয়েশিয়া করেছে ২৫ বছরে, সিঙ্গাপুর করেছে ৩৫ বছরে। সুতরাং যাদের সঙ্গে পার্থক্য দেখানো হয়, সেসব দেশের অনেক আগেই অনেক অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছেন।’

পৃথিবীর অন্যান্য শহরের মতো ঢাকা শহরকেও ধীরে ধীরে তারের জঞ্জাল মুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, ‘ঢাকার সৌন্দর্য আমরা অনেকাংশেই উপলব্ধি করতে পারি না। বিভিন্ন কারণে ‘ঢাকার সৌন্দর্য’ ঢাকা পড়ে যায়। সেই ঢাকা পড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি মূল উপাদান হলো তার। শহরের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুতের তার, অন্যান্য ইউটিলির তারের জঞ্জালের জন্য আমরা আমাদের সুন্দর ঢাকাকে উপভোগ করতে পারি না। কিন্তু আমরা যখন বহির্বিশ্বে যাই তখন বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে দেখি একটি খোলা জায়গা, স্বচ্ছ জায়গা। কোনও তারের জঞ্জাল নেই, চোখে কোনও বাঁধা নেই। সে ক্ষেত্রে ওই শহরটিকে অনেক সুন্দর মনে হয়। আজ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা ঢাকা শহরের মাথার ওপরের তারের জঞ্জাল ভূগর্ভস্থে নিয়ে যেতে পারছি, নিয়ে যাবো।’

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট দ্রুত শেষ হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশও সারা বিশ্বের মতো ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘৫ ডলারের যে গ্যাসের মূল্য সেটা ৪০ ডলার এসে পৌঁছেছে। সারা বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে টালমাটাল। ইউকে, জার্মানি প্রত্যেকেই সংগ্রাম করছে বিদ্যুৎ নিয়ে, জ্বালানি নিয়ে। আমরাও এই বৈশ্বিক অবস্থার বাইরে নই।’

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর আহমেদসহ করপোরেশন ও ডিপিডিসির বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, ‘ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডিতে ২০ কিমি ওভারহেড বিদ্যুত বিতরণ লাইনকে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ-চীন জিটুজি স্কিমে ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে ধানমন্ডি এলাকার ২০ কিমি ওভারহেড বিদ্যুত বিতরণ লাইনকে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করতে ৫৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। আগামী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 

/আরএইচ/আরকে/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের