কামরাঙ্গীরচরকে একটি আধুনিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
বুধবার (১১ অক্টোবর) সকালে কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজ থেকে নিজামবাগ বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামরুল সরণির’ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মেয়র এ কথা বলেন। ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে এই সড়কটি নির্মাণ করা হবে। দুই হাজার ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১০৪ ফুট গড় প্রশস্ততার এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে ৩৯ কোটি টাকা।
মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচরে অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে। আমরা ঢাকা শহরকে একটি বাসযোগ্য, পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্ততের যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছি, সে পরিপ্রেক্ষিতে কামরাঙ্গীরচরকে একটি আধুনিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। উন্নত দেশে আমরা দেখি, একটি সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক বা ফিনান্সিয়াল হাব থাকে। সেভাবেই কামরাঙ্গীরচরকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।’
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা আদি বুড়িগঙ্গা পুনঃখনন করছি। আদি বুড়িগঙ্গা তার রূপ আবার ফিরে পাচ্ছে। এর পাশ দিয়েই আমরা নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করবো। এই লোহারপুল সেতুর জায়গায় আমরা ছয় সারি বিশিষ্ট একটা আধুনিক সেতু নির্মাণ করবো। এর উত্তরদিকে যে এলাকা রয়েছে আমরা সেখানে আধুনিক মানের একটি ফাইভ স্টার হোটেল, কনভেনশন হল, ৫০তলা বিশিষ্ট নান্দনিক ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করবো। আর দক্ষিণ দিকে সুন্দরভাবে আবাসন গড়ে তুলবো। এছাড়াও বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দিয়ে নিজামবাগ থেকে ঝাউচর পর্যন্ত আরও চার সারি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এভাবেই কামরাঙ্গীরচরকে একটি আধুনিক নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় কামরাঙ্গীরচরকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যে সব সরকারি জমি রয়েছে সেগুলো অবশ্যই দখলমুক্ত করা হবে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন যে সব জমির প্রয়োজন হবে, আমরা তাদের পূর্ণরূপে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবো। কেউ বঞ্চিত হবে না। যথাসময়ের আগে আপনারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়ে যাবেন। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই কামরাঙ্গীরচরের চেহারা পাল্টে যাবে। পরিকল্পিত নগরায়নের আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা কামরাঙ্গীরচরবাসী পাবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, অগ্রগতি হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতাকে আমরা যাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এই অর্জনগুলোকে আমরা যাতে রক্ষা করতে পারি, কোনও হায়েনার দল যেন এই অর্জনগুলোকে নষ্ট করতে না পারে সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন– করপোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ।









