রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ট্রেনে আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ খোকন মিয়াকে (৩৫) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে খুঁজতে এসেছেন তার স্ত্রী সাজনা আক্তার। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে হাসপাতালে আসেন তিনি।
পুড়ে যাওয়া একটি মরদেহের মুখমণ্ডল, দাঁত ও পাঞ্জাবি দেখে সেটা খোকন বলে অনেকটাই নিশ্চিত সাজনা। তিনি জানান, খোকনের ভাইয়ের বিয়ের জন্য গত বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ যান। ঘটনার দিন রাতে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে মা বকুলা বেগম এবং এক বছর বয়সী মেয়ে শারমিনকে নিয়ে খোকন ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ৯টায় তার সঙ্গে সাজনার মোবাইল ফোনে কথা হয়। পরে জানতে পারেন, ওই ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। চার জন মারা গেছে। তারপর থেকে খোকনের মোবাইল ফোন বন্ধ পান।
তিনি বলেন, ‘ঢামেক হাসপাতাল মর্গে এসে দুটি মরদেহ দেখি। তার মধ্যে একটির মুখমণ্ডল, দাঁত ও পাঞ্জাবি দেখে মনে হচ্ছে ওটা খোকনের মরদেহ। হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে, ডিএনএ ম্যাচিং হলে লাশ দেওয়া হবে।’
সাজনা জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী ক্রোনি গ্রুপের অবন্তী কালার টেক্সটাইলে অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তাদের আট বছর বয়সী এক ছেলে এবং এক বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকায় থাকেন। খোকন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা জুলসা গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেতাফুর রহমান বলেন, ‘সাজনা যে মরদেহটি তার স্বামীর বলে দাবি করছে, সেটা ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলের নমুনা সংগ্রহ করে ম্যাচিংয়ের পর দাবিদারকে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’








