দুর্গাপূজা উদযাপনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মাইনুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এ বছর ঢাকা মহানগরীতে ২৫৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবের নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম থাকবে।’
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত মর্জাদাপূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পূজা উদযাপন চলবে। বিজয়া দশমীর মাধ্যমে এটা শেষ হবে। দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হলেও এর আনন্দ বাংলাদেশ সব স্তরের মানুষ উদযাপন করে থাকে।’
মাইনুল হাসান বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে এ বছর ২৫৩টি স্থানে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩১টি, উত্তর সিটিতে ১২২টি স্থানে পূজার আয়োজন হচ্ছে। ঢাকাসহ সারা দেশে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা যায়, সে জন্য আমরা বিভিন্ন সমন্বয়ক সভা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, থানা-পুলিশের মাধ্যমে নিজস্ব টহল ও চেকপোস্টের ব্যবস্থা এবং সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকছে। এছাড়াও উচ্চ ধারণক্ষমতা সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরা, মেটাল ডিভাইস মাধ্যমে চেকিং ব্যবস্থা থাকবে। পূজা কমিটির মাধ্যমে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা নিরাপত্তা দেবেন।’
পূজা চলাকালীন সময়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু এলাকার রাস্তা সরু থাকায়, বিশেষ করে পুরান ঢাকায় কিছুটা যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমরা পূজা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেছি, যাতে ওইসব মণ্ডপের আশেপাশে মেলা বসতে না দেওয়া হয়। ১৩ অক্টোবর বিজয়ার দিনে বিসর্জনের জন্য ঢাকায় ১৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।’
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রতি বছর পূজা বিসর্জনের সময় নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ সব ঘটনা প্রতিরোধে এবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজা শেষে বিসর্জনের জন্য ঢাকা মহানগরীতে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫টি স্থান। এই তালিকায় পোস্তগোলা শ্মশানঘাট, ওয়াইজঘাট সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী ও ডেমরাসহ আরও অন্যান্য স্থান রয়েছে। বিসর্জন শোভাযাত্রার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বিসর্জনের স্থানগুলোতে নৌ পুলিশের টহলের পাশাপাশি ফায়ার ব্রিগেডকে অনুরোধ করেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’ এছাড়া জরুরিও প্রয়োজনে ৯৯৯ এ সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। পূজা মণ্ডপগুলোতে তল্লাশির সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়াও বিসর্জনের দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করা, পূজা উদযাপন, বিসর্জন এবং শোভাযাত্রার সময় সব ধরনের আতশবাজি এবং পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকা থাকার অনুরোধ জানান কমিশনার।









