‘ঈদ এলে ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়। মন ভরে নিশ্বাস নিতে পারি। সত্যিই ভালো লাগে। গাড়ির অতিরিক্ত হর্ন নেই, কালো ধোঁয়াও কম। কোথাও যেতে চাইলে জ্যামে বসে থাকতে হয় না। সত্যি বলতে, এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি; এমন শহরের অপেক্ষায় থাকি।’
বুধবার (২ এপ্রিল) কথাগুলো বলছিলেন মিরপুর ২ নম্বরের বাসিন্দা মহসিন রেজা।
ঈদ এলেই কর্মব্যস্ত ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষ প্রিয়জনের টানে গ্রামে ছুটে গেছেন, ফলে রাজধানী পরিণত হয়েছে এক নীরব নগরীতে। ফাঁকা ঢাকায় ঈদের প্রশান্তি যেন এক চেনা-অচেনা আবেশ।
বুধবার (২ এপ্রিল) ঈদের তৃতীয় দিন রাজধানীর মিরপুর ১, ২, ৬, ১০, ১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়, আগারগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জনবহুল রাস্তাগুলো প্রায় মানুষ-যানবাহন শূন্য। শপিংমল থেকে এলাকার মুদি দোকানের বেশিরভাগই বন্ধ। কর্মচঞ্চল পথঘাট নীরব।
এদিকে মানুষের সংখ্যা কম থাকায় রাস্তায় বড় যানবাহনের সংখ্যাও কম। বেশি চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার। অনেক বাস বিভিন্ন রাস্তায় পার্কিং করে রাখা হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর বেশিরভাগই রয়েছে গ্যারেজে। ঈদের এই সময়ে বেশিরভাগ মানুষ রিকশাকেই বেছে নিয়েছে ঘুরাঘুরির বাহন হিসেবে।
মিরপুর ৬ নম্বরের সিএনজিচালিত অটোরিকশার একটি গ্যারেজের দায়িত্বে থাকা হাসানুর মোল্লা বলেন, ‘আমার এই গ্যারেজে ৩০টার মতো অটোরিকশা থাকে। আজ সকাল থেকে ছয়টা গাড়ি বের হয়েছে। বাকিগুলো গ্যারেজেই আছে। সবাই ছুটিতে বাড়ি গেছে। এখনও আসে নাই। আর যারা যাইনি তারা বের হয়েছে গাড়ি নিয়ে।’
মিরপুর ১০ নম্বরের বাসিন্দা আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমার নিজের বাইক (মোটরসাইকেল) আছে। তবু রিকশায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় ঘুরার আনন্দ অন্যরকম।’
মিরপুর ১ নম্বরের বাসিন্দা মো. আল-আমিন বলেন, ‘ঈদের সময় রাজধানীতে চলাচল করা অনেক স্বস্তির। অন্য সময়ে যেমন কোথাও যেতে চাইলে জীবন অতিষ্ট হয়ে যায়; ঈদে সেটা হয় না। এই সময় চলাচল করা আরামদায়ক।’
তবে যানবাহন কম থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। এমনই একজন আনোয়ার হোসেন। বাসে গুলিস্তান থেকে পরিবার নিয়ে মিরপুর এসেছেন তিনি। এ সময় তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আনোয়ার বলেন, ‘চিড়িয়াখানার ঘুরতে এসেছি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে বাস ভাড়া বেশি রাখা হয়েছে। শুধু আমাদের কাছ থেকেই না, সবার কাছ থেকেই বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’









