কেন অভিজাত এলাকায় শব্দদূষণ বেশি?

উদিসা ইসলাম
০৫ জুন ২০২২, ১০:০০আপডেট : ১৯ জুন ২০২২, ১৫:২২

গুলশান এলাকায় শব্দদূষণ রোধে জনসচেতনা তৈরিতে গত ১৭ মে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রচারণার ব্যবস্থা করা হয়। সারা দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, নামি- দামি নতুন গাড়ির বেশকিছু হর্ন নিয়ে আপত্তি ওঠে। এসময় ৩০ জনকে সতর্ক করে দেওয়া হয় এবং শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী উচ্চ শব্দের ৮টি অবৈধ হর্ন খুলে ফেলা হয়।

একদিনের সেই অভিযানের সত্যতা মেলে গবেষণাতেও। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর গবেষণা বলছে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হয় গুলশান-২ এলাকায়। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত একবছরে আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, শাহবাগ, ধানমন্ডি-৩২, সংসদ এলাকা, তেজগাঁও, আগারগাঁও, মিরপুর-১০ এবং গুলশান-২-এর বায়ু ও শব্দ মানের তথ্য-উপাত্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন অভিজাত এলাকায় শব্দদূষণ বেশি?

গবেষণা বলছে, ঢাকা শহরের ১০টি এলাকার মধ্যে গুলশান-২ এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মান এলইকিউ ৯৫.৪৪ ডেসিবল, যা মিশ্র এলাকার জন্য দিনের বেলার জাতীয় আদর্শ মান (৫৫ ডেসিবল) থেকে ১.৭ গুণ বেশি। এরপরের অবস্থান আবদুল্লাহপুরে, ৯৫.৪৩ ডেসিবল— যা জাতীয় আদর্শ মানের (৬০ ডেসিবল) থেকে ১.৬ গুণ বেশি। গবেষণার আওতার মধ্যে সর্বাধিক ১৩২ ডেসিবল শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে গুলশান-২ এলাকায় এবং সর্বনিম্ন শব্দ রেকর্ড হয়েছে সংসদ এলাকায় ৩১.৭ ডেসিবল।

গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে কেন অভিজাত এলাকায় শব্দদূষণ বেশি, তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘আমরা গবেষণাকালে প্রতিদিনের তথ্য সংগ্রহ করেছি। গুলশান-২ এলাকায় ৮টি রুট থেকে গাড়ি আসে। এখানে খুব অল্পসময়ের জন্য সিগন্যাল ছাড়া হয় এবং সেসময় প্রতিযোগিতা শুরু হয়— কার আগে কে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য করবেন, গুলশান-২ নম্বরে প্রচুর বহুতল ভবন। এ কারণে কোনও একটি শব্দ সৃষ্টি হলে ইকো হতে থাকে। সৃষ্ট শব্দ বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার নানাবিধ অফিসের কারণে এই এলাকায় বাইকের পরিমাণ বেশি। সেখান থেকেও নয়েজ তৈরি হয়।’

করণীয় উল্লেখ করতে গিয়ে ড. মজুমদার বলেন, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৮ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, চিহ্নিত জোনগুলোতে (নীরব, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও মিশ্র) সাইনপোস্ট উপস্থাপন করে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া হর্ন বাজানোর থেকে বিরত থাকাতে হবে। সন্ধ্যার পর উচ্চস্বরে গান না বাজানো এবং সন্ধ্যার ওপরে নির্মাণ কাজ না করা। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেটে বরাদ্দ বাডোতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিজাত এলাকায় শব্দদূষণ বেশির কারণ সেখানে যানবাহন অভিজাত এবং মানুষজন আইনের প্রতি কম সহানুভূতিশীল। সেখানে সিগন্যাল ক্রসের সময় যে প্রতিযোগিতা এবং অধৈর্যশীল আচরণের মধ্য দিয়ে হর্ন বাজাতে দেখা যায়, তা অকল্পনীয়। একইসঙ্গে সেখানে চলাচলকারী গাড়িগুলো দামি ও শক্তিশালী হর্ন থাকে। খণ্ডিত ও  অবৈজ্ঞানিকভাবে কোনও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এর সমাধার সম্ভব নয়।’

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
মেডিক্যাল বর্জ্যে ছড়াচ্ছে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী
প্লাস্টিক বর্জ্য ও দূষণে বিপর্যস্ত পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা পড়তে যাচ্ছে বিশ্বকাপের খেলায় 
সর্বশেষ খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
চুক্তি হওয়ার আগে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়: ট্রাম্প
চুক্তি হওয়ার আগে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়: ট্রাম্প
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪৫ নেতাকর্মীকে ধরে পুলিশে দিলো ছাত্রদল
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪৫ নেতাকর্মীকে ধরে পুলিশে দিলো ছাত্রদল
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সর্বাধিক পঠিত
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর আ.লীগের হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর আ.লীগের হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন
খাবারই ছিল পেশা এখন সেই খাবারেই লড়াই
খাবারই ছিল পেশা এখন সেই খাবারেই লড়াই
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে 
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে 
সব মন্ত্রণালয়ে নজর রাখছে জামায়াত
সব মন্ত্রণালয়ে নজর রাখছে জামায়াত
আগেই তাকে ত্যাজ্য করেছি, ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো না
আগেই তাকে ত্যাজ্য করেছি, ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো না