জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের দাবি জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৫আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৫

বাংলাদেশের সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (আইইপিএমপি) অবিলম্বে বাতিল এবং সব নতুন জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের দাবি উঠেছে ‘তৃতীয় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ-২০২৫’ থেকে। জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আইইপিএমপি বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর কয়লা ও এলএনজি ব্যবস্থায় আটকে দিচ্ছে, যা জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় দুই দিনব্যাপী সমাবেশের সমাপনী দিনে জলবায়ু ন্যায্যতা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনগণের অধিকার বিষয়ে ৮ দফা ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

১৩–১৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপকূল, হাওর, চর ও বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে আসা জেলে, কৃষক, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ৮ দফা ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবং সভাপতিত্ব করেন সমাবেশের আহ্বায়ক ড. মুজিবুর রহমান।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, আইইপিএমপি ও মহেশখালী–মাতারবাড়ী উন্নয়ন উদ্যোগ বাংলাদেশের চরম জলবায়ু ঝুঁকি উপেক্ষা করে কয়লা ও এলএনজি–ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

শরীফ জামিল বলেন, ‘আইইপিএমপি ও এমআইডিআই পরিকল্পনাগুলো বাংলাদেশের জলবায়ু বাস্তবতার সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো আমদানি করা কয়লা ও এলএনজি নির্ভরতা বাড়ায় এবং জনগণকেন্দ্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে।’

ঘোষণাপত্রে সব নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি–ভিত্তিক প্রকল্প বন্ধ, আইইপিএমপি ও এমআইডিআই বাতিল, বিদ্যমান প্রকল্প ধাপে ধাপে বন্ধের রোডম্যাপ এবং অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বন্ধের দাবি জানানো হয়।

ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভের কৌশলগত উপদেষ্টা হারজিৎ সিং বলেন, ‘জলবায়ু ন্যায্যতা দেশের ভেতরের বৈষম্য ও উন্নয়ন মডেলের সঙ্গেও জড়িত।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সিদ্ধান্তে মানুষ ও প্রকৃতিকে কেন্দ্রে রাখতে হবে।’

সমাবেশের সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী বলেন, ‘রামপাল প্রকল্পসহ বিতর্কিত প্রকল্পগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব এখন স্পষ্ট।’ তিনি তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

/এসএনএস/এমএইচআর/
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী