রাজধানীর মেরুল বাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশন। গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইন দাঁড়িয়ে গাড়ি। লাইন হাতিরঝিলের ভেতরে প্রায় কিলোমিটার ছড়িয়ে গেছে। রাস্তার একপাশে গাড়ির লাইনে তৈরি করেছে দীর্ঘ জ্যাম। কিন্তু তখনও গ্যাস নেই।
রবিবার রাতে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস আসার অপেক্ষাতেই গাড়ির এই দীর্ঘ সারি। সারাদিন গ্যাস ছিল না। রাতে আসবে দেখে গাড়ির এই সিরিয়াল।
কথা হয় গ্যাস বিক্রয়কর্মী আসাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখনো গ্যাস আসেনি। গ্যাস আসলে তারপর দেওয়া শুরু করবো। কখন আসবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, শুনেছি ১২টার দিকে আসবে।
শুক্রবার বিকাল ও শনিবার গ্যাস সরবরাহ ঠিক হলেও রবিবার আগের মতোই যথারিতি গ্যাস নেই। গ্যাস নেওয়ার জন্য সেই দীর্ঘ সারি।
রবিবার রাতে সিএনজিচালক আব্দুল মালেক বলেন, শনিবার ভালো গ্যাস পেলেও এখন আবারও সংকট শুরু হয়েছে। রবিবার সারাদিনই এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এখন রাত ১০টা পার হয়ে গেছে তারপরও গ্যাসের কোনও খবর নেই। কখন গ্যাস পাবো বলতেও পারি না।
সেখানে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, রবিবার সকালে ডেমরাতে ৩০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এখন গ্যাসের লালবাতি। এখানে গ্যাস নেওয়ার জন্য এসেছি। দেখি কখন গ্যাস পাই। তিনি বলেন, শনিবার একটু গ্যাস পেয়েছিলাম। আমার সিলিন্ডারে গ্যাসের প্রেসার ভালো থাকলে ৬০০ টাকার ওপরে গ্যাস ঢোকে। কিন্তু এখন অবস্থা ভালো না। দেখি কত টাকার গ্যাস পাই। সেই অপেক্ষায় আছি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু জামান ফিলিং স্টেশন নয়, রাজধানীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই অবস্থা। মালিবাগের সিএনজি স্টেশনের গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইন রামপুরা বাজার পর্যন্ত চলে এসেছে। তেজগাঁওয়ের আকিজের অবস্থাও একই রকম। খিলক্ষেত ও বিমানবন্দরের সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনের খবর পাওয়া যায়।
আকিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মী তারেক জানান, রাত ১২টার পর গ্যাস আসে। তবে প্রেসার ভালো ছিল না। আমরা যতদূর পেরেছি দিয়েছি। আজ সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ নেই।
এদিকে গ্যাসের সরবরাহের এমন অবস্থায় সিএনজিচালিত প্রাইভেটকার ও অটো চালকদের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে গ্যাসের আবারও সংকট শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার গ্যাসের সরবরাহ থাকলেও রবিবার সকাল থেকে গ্যাস নেই। গ্যাসের চুলা জ্বললেও তা দিয়ে রান্না সম্ভব না।
বনশ্রী এলাকার গৃহিনী কানিজ ফাতেমা বলেন, এই দুই দিন গ্যাসের অবস্থা টেস্ট করা হলো। এখন আবারও আগের মতো অবস্থা। চুলায় যে গ্যাস আছে তা দিয়ে রান্না সম্ভব না। তিনি বলেন, ইনডাকশন চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।
বাসা বাড়ির গ্যাসের সংকটে রাজধানীর হাজার হাজার পরিবার এখন বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন।
মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে সংকট তৈরি হয়েছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিকের গ্রাহক, সিএনজিচালক ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।








