জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় উচ্চ রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ তথ্য এবং আধুনিক জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেল চালু করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি)।
নতুন মডেলের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, পরিবর্তনের ধারা ও সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকা সম্পর্কে আগাম আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতাও দৈনিক ভিত্তিতে অধিকতর নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে ‘বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাড়তে পারে ভারী বৃষ্টি
উচ্চ রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে ওই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়বে।
একইসঙ্গে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উচ্চ রেজোলিউশনের তথ্য ব্যবহার করে অঞ্চলভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব আরও বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা যাবে। এতে দুর্যোগ প্রস্তুতি, কৃষি পরিকল্পনা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অধিক কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশ হচ্ছে পূর্বাভাস
বিএমডির নতুন জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেল ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। মডেলটির পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের সময় সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা এবং কোনও কোনও উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হতে পারে, সে বিষয়ে আগাম তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো মানুষের নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া এবং আগাম প্রস্তুতির জন্য তুলনামূলক বেশি সময় পাবে।
এ উদ্যোগটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ বা ‘সবার জন্য আগাম সতর্কতা’ বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
জাপানি বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্ট্রেংদেনিং দ্য ক্যাপাসিটি অব ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিসেস’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মডেল ও জলবায়ু প্রক্ষেপণ তথ্য তৈরি করা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় জুলাই মাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জন্য একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে জাপান আবহাওয়া সংস্থার মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা ও ড. নাদাও কোহ্নো অংশ নেন। তারা বিএমডির কর্মকর্তাদের জলবায়ু প্রক্ষেপণ, জলোচ্ছ্বাস মডেলিং এবং আধুনিক পূর্বাভাস প্রযুক্তি ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেন।
সেমিনারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।









