X
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪
৩০ চৈত্র ১৪৩০

সুযোগ পেলে আবারও মঞ্চনাটকে ফিরে যেতে চাই: আমিনা আহমেদ

বাহাউদ্দিন ইমরান
১১ মার্চ ২০২২, ১৮:৫৩আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ১৬:৫২

ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগ হলো। এর কয়েক বছর পর ঢাকা শহরজুড়ে সমবেত হলো একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী। তাদের উদ্দেশ্য, ভিন্নধর্মী সংস্কৃতি চর্চা। ১৯৫০ সাল থেকে তারা একাধারে ঢাকার বিভিন্ন মিলনায়তনে মঞ্চায়ন শুরু করলো কালজয়ী ইংরেজি লেখকদের প্রসিদ্ধ সব নাটক। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মঞ্চস্থ সেসব নাটক প্রশংসা কুড়ায়। অন্যান্য সদস্যের মতো সেসব নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেছেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও ব্যবসায়ী আমিনা আহমেদ। মঞ্চনাটকের সেই সব দিনগুলোর স্মৃতিকথা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে মেলে ধরলেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউন: স্কুল ও কলেজ জীবনে মঞ্চনাটকে যুক্ত হওয়ার গল্পটা কেমন ছিল?

আমিনা আহমেদ: ১৯৫৬ সালের কথা। আমরা তিন বোন তখন আসামের লরেটো কনভেন্ট শিলং স্কুলে পড়তাম। আমার বয়স তখন সাড়ে ৯ বছর। আমাদের তিন বোনকে পাহাড়ি ওই বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। স্কুলটি কয়েকজন আইরিশ নান পরিচালনা করতেন। সেখানে আমাদের তিন বোনকে সবকিছু ইংরেজিতেই বলতে অভ্যস্ত হতে হয়েছিল এবং আমাদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহার বারণ ছিল। সেখানকার পরিবেশ অনেকটাই প্রাইভেট ইংলিশ স্কুলের মতো। ওখানে খাসিয়ারা থাকে। তারা আমাদের দেখাশোনা করতো এবং তারাও ইংরেজিতে কথা বলতো। স্কুলে ভর্তির বছরই আমি প্রথম মঞ্চে উঠি। আমাকে একজন আইরিশ নান জিগ (স্কটিশ ড্যান্স) করতে বলেছিলেন। আমি তখন একা একটি গান পরিবেশন করি এবং তার সঙ্গে মঞ্চে একাই নৃত্য (জিগ) পরিবেশন করি।

আমাদের স্কুলে সব ধরনের খেলাধুলার পাশাপাশি অভিনয়ের একটি শাখা ছিল। সেখানে ‘প্রিন্সেস জারা’ নামে একটি অপেরায় অংশ নিয়েছিলাম। আমি ‘হুইটচ’ হিসেবে একটি দলীয় নৃত্যে অংশ নিই। ‘প্রিন্সেস জারা’য় লম্বা ধরনের আলগা একটি নাক পরতে হয়েছিল। সেই নাকের গন্ধ এখনও মনে পড়ে। পরে ‘দ্য রোব’-এর ‘ফ্যারেসি’ চরিত্রে অভিনয় করি। এরমধ্যে ওয়েস্টার্ন পদ্ধতিতে পিয়ানো ও বেহালা বাজানো শিখতে শুরু করি। রেড ইন্ডিয়ানদের সংগীতনির্ভর গল্প ‘হায়াওথা’য় অভিনয় করি। সেখানে কয়েকজন ন্যারেটর ছিলেন, তারা তখন গল্পগুলো বলতেন।

ওই সময় ভারতে লরেটোর ১৩টি স্কুল ছিল। স্কুলের বেশিরভাগই ছিল পাহাড়ে। স্কুলে আমরা মাদার বার্কমান্সকে পেয়েছিলাম। তিনি শিলংয়ের লরেটো স্কুলে রিটায়ার্ড নান হিসেবে যুক্ত থাকায় তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমাদের লরেটো দার্জিলিং স্কুলে ‘জ্যুলি স্ক্রিস্টি’ এবং ‘ভিভিয়ান লে’ পড়েছিল। মাদার বার্কমান্স সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। শিলংয়ে লরেটোতে থাকাকালে তিনি আমাকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তখনকার দিনে মাইক ছিল না। তাই কীভাবে নিজের কণ্ঠস্বর সবার মাঝে পৌঁছে দিতে হয়, মঞ্চে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে কার সঙ্গে কথা বলতে হয়– সেসব বিষয়ও শিখিয়েছেন। এরপর সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আমার ‘সিনিয়র ক্যামব্রিজ’ পাস হয়ে গেলো। একই বছর চীন থেকে ভারতে হামলা চালানো হলে স্কুলটির বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এলাম এবং হলিক্রস কলেজে সিস্টারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। আমরা মূলত হলিক্রস স্কুল থেকেই শিলং গিয়েছিলাম। হলিক্রসের সিস্টারদের সঙ্গে আলাপ করে বাবা (বাংলাদেশের প্রথম মরণোত্তর চক্ষুদানকারী প্রকৌশলী এআরএম এনামুল হক) আমাদের শিলং লরেটো স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। সিস্টাররা বাবাকে বলেছিলেন, ‘আপনার মেয়েরা অনেক মেধাবী। কিন্তু বাসায় পড়ালেখা দেখার যেহেতু কেউ নেই, সেহেতু তাদের লরেটো কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি করে দিন। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং পড়াশোনাও ভালো হবে।’

১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে হলিক্রসে ভর্তি হই। এরপর সেখানে একটি নাটকের রিহার্সেল চলাকালে সিস্টার ফান্স ইলিয়া আমাকে ডাক দিলেন। পড়াশোনার বাইরে আর কী কী করতে পারি তা জানতে চাইলেন। আমি ‘হায়াওথা’র একটি স্পিস আবৃত্তি করলাম। তখন তিনি আমাকে ‘অ্যাস ইউ লাইক ইট’-এ অভিনয়ের জন্য ‘অলিভার’ চরিত্রটি নির্ধারণ করে দিলেন। তখন হলিক্রসে ‘থেসপিয়ান্স’ নামে অভিনয়ের একটি গ্রুপ ছিল। এরপর আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিলে নাটকটি মঞ্চায়ন করি। এখানে এটাই ছিল আমার প্রথম মঞ্চ অভিনয়। এরপর ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এ ‘অ্যান্টোনিও’ চরিত্রে অভিনয় করি। হলিক্রস স্কুলের নিজস্ব মিলনায়তনে নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। মেয়েদের স্কুল ও কলেজ হওয়ায় আমাকে একজন পুরুষের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয়েছিল।

আমরা যখন লরেটোতে পড়ি, সেটি সেখানকার শীর্ষ স্কুল ছিল। পাশের আরেকটি পাহাড়ে ছেলেদের স্কুল (সেন্ট এডমেন্স) ছিল। আমরা আমাদের স্কুল থেকে ছেলেদের স্কুলে অপেরা নাটকসহ বিভিন্ন পারফরম্যান্স দেখতে যেতাম, তারাও আমাদের স্কুলে আসতো। ওই সময় ভিক্টর ব্যানার্জিকে (কলকাতার চলচ্চিত্র অভিনেতা) মেয়ে সেজে অপেরা করতে দেখতাম। তার গানের গলাও বেশ সুন্দর। প্রতিবছর আমরা তার পারফরম্যান্স দেখতে যেতাম।

আমিনা আহমেদ

বাংলা ট্রিবিউন: কোন নাটকের কোন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন?

আমিনা আহমেদ: স্কুলে থাকাবস্থায় ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে সিস্টার ফ্রান্সিলিয়ার পরিচালনায় ‘অ্যাস ইউ লাইক ইট’-এ ‘অলিভার’, সিস্টার জোসেফ মেরির পরিচালনায় ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এ ‘অ্যান্টোনিও’ চরিত্রে অভিনয় করি। এরপর ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত প্রমিথিয়ান্সের সঙ্গে থেকে আর্থার মিলারের লেখা ‘অল মাই সানস’-এ মিস্টার রাদারফোর্ডের পরিচালনায় ‘অ্যান’, ‘আগাথা ক্রিস্টি’র ‘আনএক্সপেক্টেড গেস্ট’-এ ড. মতিনের পরিচালনায় সিনিয়র মিসেস ওয়ারউইক চরিত্রে অভিনয় করি। এরপর মিস্টার ও মিসেস মালহলেন্ডের পরিচালনায় জর্জ বার্নার্ড শ’র ‘দ্য পিগ ম্যালিয়ন’-এ ফ্রেডির মায়ের চরিত্রে প্লে রিডিং করি, যা ব্রডওয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। হলিক্রসের সুবর্ণজয়ন্তীতে জোসেফ মেরির পরিচালনায় ‘অ্যান্টিগনি’তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করি।

বাংলা ট্রিবিউন: মঞ্চনাটকের কোন চরিত্রটি আপনাকে এখনও উদ্বেলিত করে?

আমিনা আহমেদ: ‘অল মাই সানস’-এ অভিনয় করতে গিয়ে চুলকে মাথার ওপর এনে জড়ো করতে হয়েছিল। আমার চুল বেশ বড় ছিল। ফলে প্রথমবার একজন চীনা হেয়ারড্রেসারের কাছে যাই। তিনি সেই চুল মাথার ওপরে এনে জড়ো করে দেন। একাধারে দুই দিন নাটক মঞ্চস্থ হলে চুলের সেট নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় উপুড় হয়ে ঘুমাতে হতো। তবে সেসব উপভোগ করতাম। অভিনয় করাটা আমার কাছে খুব কঠিন ছিল না। তখন মিস্টার রাদারফোর্ড আমাকে বাসা থেকে রিহার্সেলে নিয়ে যেতেন, আবার বাসায় নামিয়ে দিতেন। কখনও বাবা নিজে গিয়ে আমাকে নিয়ে আসতেন।

আমিনা আহমেদ

বাংলা ট্রিবিউন: একটি সময় পর মঞ্চনাটক থেকে প্রস্থান ঘটেছিল কেন?

আমিনা আহমেদ: ১৯৬৯ সালে আমার বিয়ে হয়। এরপর পাকিস্তানে চলে যাই। ফলে অভিনয়ে প্রস্থান ঘটে। ১৯৭৩ সালে যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি তখন আমি দুই সন্তানের জননী। ওই বছর আমারই সহ-অভিনেতা ইমতিয়াজ হোসেনের মাধ্যমে জানতে পারি, ১৯৬৬ সালে ‘অল মাই সানস’-এ আমার অভিনয় দেখার পর আমাকে ফিল্মে নেওয়ার জন্য এফডিসি থেকে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু ততদিনে বহু বছর পেরিয়ে গিয়েছিল। তবে এমন প্রস্তাব যদি সত্যজিৎ রায়ের কাছ থেকে পেতাম তাহলে অবশ্যই ফিল্মের কথা ভেবে দেখতাম।

বাংলা ট্রিবিউন: মঞ্চনাটকে অভিনয়ের অনুভূতি কেমন ছিল?

আমিনা আহমেদ: তখন মাত্র মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হলাম। শেখ পরিবার আমাকে ইংরেজি মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানালো। আমিও প্রমিথিয়ান্সে যুক্ত হলাম। প্রমিথিয়ান্স গ্রুপে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ঢাকার বিভিন্ন পেশাজীবী মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে আসতেন। আমার বাবা ও ছোট বোন আমিরা হক (জাতিসংঘের অবসরপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল) মঞ্চনাটক দেখতে যেতো। আমিরা হক প্রোম্পটর হিসেবেও নাটকে অংশ নিতো। ১৯৬৬ সালের কথা। ঢাকায় তখন আর্থার মিলারের ‘অল মাই সানস’ নাটক পরিবেশন করা হয়। আমাকে ‘অ্যান’ চরিত্র দেওয়া হলো। কলেজের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ওই নাটকে সবাই অভিনয়ে অংশ নিয়েছিল। আমাদের নির্দিষ্ট কস্টিউম মেকার ছিল। আমাদের সেট তারেক আলম আর্কিটেক্ট বিভাগ থেকে বানিয়েছিল। সেটটি সুন্দর ছিল। আমেরিকান মি. রাদারফোর্ডের পরিচালনায় নাটকটি মঞ্চায়ন করি। স্মৃতিজুড়ে সেটি ছিল অনাড়ম্বরপূর্ণ একটি সময়।

আমিনা আহমেদ

বাংলা ট্রিবিউন: মঞ্চনাটকে পুনরায় ফিরতে কখনও ইচ্ছে হয়েছিল?

আমিনা আহমেদ: দেশ স্বাধীনের পর আমার সঙ্গীদের মঞ্চনাটকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দলের সদস্যদের সবার ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় আর নাটক করা হয়নি। তবে ২০২১ সালে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে আমরা প্রমিথিয়ান্সের কয়েকজন সদস্য কয়েকটি দেশ (বাংলাদেশ, কানাডা, লন্ডন ও আমেরিকা) ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রিইউনিয়ন করি। ওইবার আমরা পাঁচ মিনিটের প্লে রিডিং করি। রিহার্সেল শেষে কস্টিউম পরে আমরা ‘অল মাই সানস’-এ অভিনয় করি। সেখানে মাদারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এখনও মাঝে মধ্যে মনে হয়, মেডিক্যাল কলেজে না পড়ে আর্টস নিয়ে থাকলে ভালো হতো। অভিনয় ও মঞ্চ আমার সবসময়ই ভালো লাগে। মঞ্চ এখনও আমাকে টানে। বর্তমানে যারা ইংরেজি মঞ্চনাটক করছে, তারাও আমাকে অভিনয়ে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। সুযোগ পেলে আবারও মঞ্চনাটকে ফিরে যেতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকায় বর্তমান সময়ের কোনও মঞ্চনাটকে দর্শক হয়ে অংশ নিয়েছিলেন?

আমিনা আহমেদ: সুযোগ হলেই ইংরেজি ও বাংলা নাটক দেখতে যাই। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে গুলশান ক্লাবে ‘ইন্সপেক্টর কলস’-এর মঞ্চায়ন দেখেছি। অভিনেতা তারিক আনাম খানের ছেলে নাটকটিতে অভিনয় করেছিল। তার অভিনয় আমার খুব ভালো লেগেছে। আরেকটি নাটক ছিল ‘লেডি উইন্ডিমেয়ারস ফ্যান’, অস্কার ওয়াইল্ডের লেখা। সেই লেখার চরিত্রে কিছুটা পরিবর্তন করে ‘দ্য বেগমস শল’ নাট্যস্থ করা হয়েছিল। তখন সেখানে একজন লিখেছিল, ঢাকায় ইংরেজি নাটক হচ্ছে। আমরা তখন বললাম– না, আমরা বহু বছর আগেই ঢাকায় ইংরেজি নাটক মঞ্চস্থ করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: এখনকার নাট্যাভিনেতাদের মধ্যে কেমন সম্ভাবনা দেখেন?

আমিনা আহমেদ: এখনকার প্রজন্মও নাটকে ভালো করছে। আমাদের দেশে বাংলা টিভি নাটক উন্নতি করেছে। ভারতের চেয়েও আমাদের নাটক বেশি উন্নতি করেছে। ভারতীয়রাও আমাদের নাটকের বেশ ভক্ত। পুরনো দিনের নাটকগুলো এখনও দেখি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কেউ কোথাও নেই’, ‘আজ রবিবার’– এসব নাটক সময় পেলে এখনও দেখি। ভালো লাগে ভীষণ। পাশাপাশি মঞ্চনাটকও ভালো হচ্ছে। সুযোগ হলেই মঞ্চনাটক দেখতে যাই।

আমিনা আহমেদের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি বাহাউদ্দিন ইমরান

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। এর পাশাপাশি বর্তমান সময়ে কোন কোন কর্মব্যস্ততা আছে?

আমিনা আহমেদ: যৌথ পরিবার, যৌথ ব্যবসা নিয়ে সময় কাটছে। পাশাপাশি বাবা ও শ্বশুরবাড়ির সবার দিকে খেয়াল রাখতে হয়। ১৯৮০ সাল থেকেই মেডিটেশনের সঙ্গে যুক্ত হই। বেশ কিছু কোর্স করি। তাই সময় করে মেডিটেশন, ইয়োগাতেও সময় দিই। মেডিটেশন শিখতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। মেডিটেশন মনের মধ্যে প্রবল শক্তির সঞ্চার করে। এ সংক্রান্ত প্রচুর বই পড়ি।

১৯৮১ সালে ৩৬ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করি। এখনও ক্লাসিক গানের সঙ্গে সময় কাটে। রবিরাগ, নৃত্যাঞ্চলের চর্চা করাই। মূলত গানটা আমার শখের। অনেক সময় কোনটা ছেড়ে কোনটা করবো, বুঝে উঠতে পারি না। করোনার মধ্যে রিডিং ক্লাবে জয়েন করেছি। সেখানে অনেক বই আছে, সেসব নিয়ে আলোচনাও হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক বই পড়ে সময় কাটাই। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করি। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বাংলা ইতিহাস পড়ি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর দেশে নির্মিত চলচ্চিত্র দেখি। শাস্ত্রীয় ও উচ্চাঙ্গসংগীতের চর্চা করে সময় কাটে। সাদী মহম্মদকে নিয়ে রবীন্দ্রসংগীত করি। ড. মিন্টু কৃষ্ণ পালের সঙ্গে উচ্চাঙ্গসংগীত চর্চা করি। তপন মাহমুদ ও পীযূষের সঙ্গে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা ফাউন্ডেশনে আছি। ফাউন্ডেশনটি খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কলিম শরাফীর হাত ধরে গড়ে উঠেছিল। কলিম শরাফীর সঙ্গে দ্বৈত গান করেছি। দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দ্বৈত গান করেছি। সিডিও আছে। আমার সব কাজে আমার স্বামী (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা, ক্রীড়া সংগঠক, প্রকাশক, লেখক ও জেমকন গ্রুপের চেয়ারম্যান কাজী শাহেদ আহমেদ) অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাই সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর এবং সুখেই আছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে ধন্যবাদ।

আমিনা আহমেদ: বাংলা ট্রিবিউনের সবাইকে ধন্যবাদ।

/আইএ/জেএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
করারোপ নীতি শিক্ষা সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করবে: সলিমুল্লাহ খান
বাংলা ট্রিবিউনকে ওয়াসিকা আয়শা খান‘নারীরা যে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন, এর নেপথ্যে শেখ হাসিনা’
‘মেয়েদের নিয়ে কেউই ঝুঁকি নিতে চায় না’
সর্বশেষ খবর
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ভ্রমণে কানাডার সতর্কতা
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ভ্রমণে কানাডার সতর্কতা
যশোরে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
যশোরে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
ইউরোপে বৈধ পথে শ্রমিক পাঠানো সহজ হবে
ইউরোপে বৈধ পথে শ্রমিক পাঠানো সহজ হবে
লুটনকে উড়িয়ে দিলো ম্যানসিটি
লুটনকে উড়িয়ে দিলো ম্যানসিটি
সর্বাধিক পঠিত
ঈদের তৃতীয় দিন: দেখতে পারেন যেসব নাটক
ঈদের তৃতীয় দিন: দেখতে পারেন যেসব নাটক
বাংলাদেশে বিমান মেরামতের কারখানা করতে চায় কানাডিয়ান কোম্পানি
বাংলাদেশে বিমান মেরামতের কারখানা করতে চায় কানাডিয়ান কোম্পানি
ভরা মৌসুমে অস্থির কেন পেঁয়াজের বাজার?
ভরা মৌসুমে অস্থির কেন পেঁয়াজের বাজার?
হুন্ডি প্রতিরোধে কী করছে সরকার?
হুন্ডি প্রতিরোধে কী করছে সরকার?
ইসরায়েল থেকে ফ্লাইট আসার ব্যাখ্যা দিলো বেবিচক
ইসরায়েল থেকে ফ্লাইট আসার ব্যাখ্যা দিলো বেবিচক