‘অনিয়ম পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৫০, মে ২৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, মে ২৫, ২০১৬

মেয়র সাঈদ খোকনঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, পুরো রমজান মাসে  অভিযান চলবে। খাদ্যে ভেজাল দিলে বা দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বাজারে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো থাকবে। এটা হবে পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য। এর বেশি কেউ নিতে পারবে না।
সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র একথা বলেন। বুধবার দুপুরে নগরভবন মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মেয়র। এতে বিভিন্ন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা নেতারা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় নিউমার্কেট কাঁচাবাজার দোকান মালিক সমিতির নেতা মো. শফিউল্লাহ বলেন, বর্তমানে বেগুনের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা। কিন্তু রমজান এলেই এর দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারও হয়ত বেগুনের দাম ৮০ টাকায় উঠবে। তিনি বলেন, বেগুনের দাম হঠাৎ করে কেন এত বাড়ে সেটা আমাদের জানা নেই। তবে এবার আমরা কথা দিচ্ছি বেগুনের মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট থাকব।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন ভূইয়া বলেন, সুপারশপগুলো আমাদের চাইতে কম দামে পণ্য বিক্রি করছে। আমরা তাদের সঙ্গে পারছি না। মেয়র বলেন, সুপারশপগুলো শীততাপ নিয়ন্ত্রিত দোকান চালায়। তাদের লোকবল অনেক। দোকান ভাড়াও বেশি। তারা যদি কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারে, তাহলে আপনারা পারবেন না কেন?

শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বাজারে পণ্যের দাম যাই হোক, বেপারীরা যে দামে বিক্রি করতে চায়, সে দামেই পাইকারদের কিনতে হয়। রমজানে পণ্যের মূল্য কারসাজির পেছনে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দায়ী বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পুরানা ঢাকার মিরণজল্লা কাঁচাবাজার সমিতির নেতা আবদুর রব বলেন, বাজারে যে মূল্য তালিকা রয়েছে সেটা বাস্তবসম্মত না। কারণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কখনোই বাজার ঘুরে এ মূল্য লেখেন না। তারা অফিসে বসে মূল্য লেখেন। এতে কোনও লাভ হচ্ছে না।

দয়াগঞ্জ কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বাজারের ভেতর প্রকাশ্যে গরু জবাই হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতারা চলাফেরা করতে পারে না। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, পুরো রমজান মাসে অভিযান চলবে। খাদ্যে ভেজাল দিলে বা দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বাজারে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো থাকবে। এটা হবে পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য। এর বেশি কেউ নিতে পারবে না।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, প্রতিটি বাজারে মূল্য তালিকা থাকতে হবে। এই তালিকায় যেসব পণ্যের দাম লেখা থাকবে সেটা মানতে হবে। এ ছাড়া কোনও পণ্যে ভেজাল দেওয়া যাবে না। ওজন যথাযথ হতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মেয়র আরও বলেন, পর্যাপ্ত মালামাল মজুদ রয়েছে। সুতরাং আশা করছি, এবারও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে।

মেয়র বলেন, এবার ছোলার দাম নিয়ে আমাদের একটু আশঙ্কা আছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম চড়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার প্রচুর ছোলা মজুদ রয়েছে। আশা করি এর দামও স্থির থাকবে, যদি না কেউ কারসাজি করে। কারো কারসাজি ধরা পড়লে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আপনারা ব্যবসায়ী। অবশ্যই মুনাফা করবেন। কিন্তু অনৈতিক কার্যকলাপ মেনে নেওয়া হবে না। কোনও প্রভাবশালী এর নেপথ্যে থাকলে তাকেও রেহাই দেওয়া হবে না।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বলেন, বর্তমানে ফলের মৌসুম চলছে। বাজারের ফলবর্জ্য রাস্তায় চলে আসছে। ব্যবসায়ীরা এদিকে খেয়াল রাখবেন যাতে কোনও বর্জ্য রাস্তায় আসতে না পারে। রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও ভেজালমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমরা চাই না এ নিয়ে আইনী তৎপরতা চালাতে। এতে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

আরও পড়ুন: 

২ মাসের ভেতরে আত্মসমর্পণ করতে হবে খালেদাকে

বান্দরবানে খাদ্যসংকট চরমে

যেভাবে জামায়াত নিষিদ্ধ করতে চায় সরকার

/ওএফ/এইচকে/এনএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ