গত এক মাসে মাদক বিক্রি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর স্পটগুলোতে পুলিশি কোনও উল্লেখযোগ্য অভিযান নেই। ফলে অনেকটা প্রকাশ্য স্থানেই চলছে মাদকের কেনা-বেচা। বিক্রেতারা বলছেন, পুলিশ জঙ্গি ধরার কাজে ব্যস্ত বলেই তারা সুযোগটা বেশি করে কাজে লাগাচ্ছেন।
তেজগাঁও, পাইকপাড়া, শ্যামলী, বেরিবাঁধ, আনন্দবাজার ও গোপীবাগ এলাকার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঈদ সামনে রেখে বাড়তি আয়ের জন্য নানা কায়দায় মাদকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছেন বিক্রেতারা। অভিযানের ভয় এখন কম। একটু আড়ালে গিয়ে মাদক বিক্রির মতো সৌজন্যটুকুও দেখা যাচ্ছে না। খোলা এলাকায় চলছে লেনদেন।
হঠাৎ এই পরিস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতাদের দাবি, মাস গেলে টাকার ভাগ যায় নানা জায়গায়। সেটা ঠিক থাকলেই হয়। আর পুলিশ এখন ‘জঙ্গি দৌড়ানিতে’ আছে।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনও টাকার ভাগ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। রাজধানীতে মাদক ঢোকার আগেই ধরা পড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতারা সুবিধা করতে পারছে না। আমাদের টহলে কমতি নেই।
তবে পুলিশের এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি রাজধানীর গোপীবাগে মাদক আখড়া নামে পরিচিত পাড়ার অলিগলিতে গিয়ে। ঘরের পুরুষরা একটু আড়ালে থাকলেও নারীরা দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন। দুজন মানুষ কোনওমতে হাঁটতে পারে এমন অলিগলি পার হয়ে হাত বাড়ালেই চালের ড্রাম, ওষুধের কৌটা থেকে বেরিয়ে আসছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল। কথা বলে জানা গেল, গোপীবাগের ভেতরে মাদক বিক্রেতারা কয়েকমাস ধরে বেশ আয়েশেই সময় কাটাচ্ছে। তাদের ধারণা, ‘পুলিশ জঙ্গি ধরায় ব্যস্ত’।
রাজধানীতে মাদক বিক্রেতাদের হিসাব অনুযায়ী চিহ্নিত সাড়ে ৬শ স্পট আছে। গত শনিবার আনন্দবাজার এলাকায় দুপুর দেড়টার দিকে ইয়াবার খোঁজে আসেন তিন যুবক। পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে ফোন দিলে পাঁচ মিনিটের ভিতর হাজির হয়ে যায় ১৩/১৪ বছরের রুবেল। পাঁচটা ইয়াবা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তারা চলে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। পুলিশ এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বললেও বড় ধরনের অগ্রগতি নেই। তবে মাঝে মধ্যে বেশকিছু আটকের ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকা এলাকায় মাদক বিক্রি করছেন চল্লিশোর্ধ নারী টগর (ছদ্মনাম)। তিনি জানান, মাদক ব্যবসা খারাপ সেটা তিনি জানেন। কিন্তু তাদের ব্যবসা এমনি এমনি চলে না। ঢাকায় অবাধে মাদক ঢুকছে তাই তারা বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে লেখালেখি করে কোনও লাভ হবে না। পুলিশসহ যে মাদকচক্র, তা ভাঙা মুখের কথা না। অভিযানের নামে খামোখা কয়েকদিন পরপর তাদের পেটে লাথি মারা হয়। তিনি গোড়ার খোঁজ করার কথা বলেন।
নিয়মিত অভিযান বিষয়ে তেজগাঁও মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সবশেষ পহেলা রোজায় পুরো কাওরানবাজারে অভিযান চালিয়েছি। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এখন এটা মাদকমুক্ত বলা যায়।’
কিন্তু কাওরানবাজার ও তেজগাঁ রেললাইনের কোথায় কোথায় মাদক পাওয়া যাচ্ছে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে আর পাওয়া যাবে না।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন ইয়াবা, খাঁজা ও ইনজেকশনসহ কিছু মাদকের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে এবং প্রতিনিয়ত যে মামলা সংখ্যা আমরা দেখতে পাই তাতে ইতিবাচক পরিস্থিতিই বলতে হয়। কারণ মাদক পেলে তবেইতো মামলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কমিউনিটি পুলিশ, বিট পুলিশকে কাজে লাগিয়ে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। তবে রাজধানীবাসীকে যদি সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।’
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পুলিশ এখন জঙ্গি ইস্যুতে ব্যস্ত থাকায় মাদকের অভিযান কম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও বিষয় থাকার সুযোগ নেই। রমজানে এমনিতেই মানুষ সংযমে থাকার কথা।
- রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে: অর্থমন্ত্রী
- পিডিবি কর্মকর্তার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ টাকা!
এজে/







