না.গঞ্জে তামিমের আস্তানায়ও ছিল কুমিল্লায় গ্রেফতার হওয়া অমি!

নুরুজ্জামান লাবু
০৯ মার্চ ২০১৭, ২৩:২০আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৭, ২৩:২৮

 

অমি কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের ওপর হামলকারী দুই জঙ্গির একজন আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমি নারায়ণগঞ্জে তামিমের আস্তানাতেও ছিল। গত বছরের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে অভিযানের সাত দিন আগে সে ওই আস্তানা থেকে চলে যায়। অমি গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গিকেও চিনত। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা মাইনুল ইসলাম মুসার নেতৃত্বে নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অমি নিজেই এসব তথ্য জানিয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ায় বর্তমানে সে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে যায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সানবীম-এর ‘এ’ লেভেল পড়–য়া আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমি। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে পুলিশ কুমিল্লার চান্দিনায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস থামালে পুলিশের ওপর গ্রেনেড হামলার চেষ্টা করে দুই জঙ্গি। গ্রেফতারের জানা যায় তাদের একজন আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ ওরফে অমি, অন্য জন মাহমুদ হাছান। পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড উদ্ধার করে পুলিশ।

কুমিল্লার চান্দিনা থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গির একজন মাহমুদ হাসানকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অমি অসুস্থ হওয়ায় সে হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’

কুমিল্লা জেলা পুলিশসহ গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জঙ্গি প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। সিটিটিসির অন্তত তিনটি দল কুমিল্লায় গিয়ে দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সিটিটিসি সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া অমি সেনা কর্মকর্তা মেজর কবির হোসেন তালুকদারের ছেলে। একবছর ধরে অমিকে খোঁজা হচ্ছিল। অমি বাসা থেকে কিভাবে পালিয়ে গেল এবং কিভাবে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লো, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিস্তারিত জানিয়েছে।

টুইটারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে দীক্ষা

জিজ্ঞাসাবাদে অমি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের মাধ্যমে সে র‌্যাডিক্যালাইজড হয়ে পড়ে। এরপর টুইটারের মাধ্যমেই সে কথিত আবু ইব্রাহীম আল হানিফের কাছে বাইয়্যাত গ্রহণ করে। এরপরই সে ‘কথিত হিজরত’-এর উদ্দেশ্যে বাসা ছেড়ে যায়। সিটির একজন কর্মকর্তা জানান, মেধাবী হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যেই সে তামিমের কাছাকাছি যাওয়ার সান্নিধ্য লাভ করে। এরপর নারায়ণগঞ্জে তামিমের আস্তানাতেই কিছুদিন ছিল অমি। প্রথমি দিকে অমি সাংগঠনিক কাগজপত্র বাংলা থেকে ইংরেজি ও ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করার কাজ করতো। নারায়ণগঞ্জে অভিযানের আগে অমি রাজধানীর অন্য একটি জঙ্গি আস্তানায় গিয়ে ওঠে। সেখান থেকেই মাস দু’য়েক আগে চট্টগ্রাম চলে যায়।

বোমা নিয়ে যাচ্ছিল ঢাকার সায়েদাবাদে

সিটিটিসি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অমি জানিয়েছে, তারা হাতে তৈরি গ্রেনেড নিয়ে ঢাকার সায়েদাবাদ যাচ্ছিল। সেখানে একজনের কাছে এসব গ্রেনেড হস্তান্তর করার কথা ছিল। ঢাকায় তাদের কয়েকটি বাসা ভাড়া নেওয়া আছে। ঢাকায় গেলে ওইসব বাসায় গিয়ে অবস্থান করতো। কিন্তু কার কাছে নিয়ে যাচ্ছিল, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। অমিকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সিটির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অমি ও মাহমুদ হাসান ঢাকায় কারও কাছে গ্রেনেডগুলো সত্যিই হস্তান্তর করতে যাচ্ছিল, নাকি কোনও অ্যাটাকের পরিকল্পনা ছিল, তা পরিষ্কার হয়নি। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে কিনা, তাও পরিষ্কার নয়। অমি অনেক চতুর ছেলে। সে পরিষ্কার করে কিছু বলছে না।’

চট্টগ্রামে রয়েছে আরও জঙ্গি আস্তানা

জিজ্ঞাসাবাদে অমি জানিয়েছে, চট্টগ্রামে তাদের আরও জঙ্গি আস্তানা রয়েছে। ঢাকায় পুলিশি তৎপরতা অধিক হওয়ায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তারা চট্টগ্রাম শহর ও আশেপাশের এলাকায় একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে আস্তানা গড়ে তুলেছে। কিন্তু সে অন্য আস্তানাগুলো চেনে না। সাংগঠনিক কারণেই একজনের একাধিক আস্তানায় যাতায়াত নিষিদ্ধ ছিল। অমি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে তাদের আস্তানায় একজন নেতা মুখোশ পরে এসেছিল। ওই নেতা ইংরেজি ও আরবিতে দক্ষ। সে বিদেশি কোনও নাগরিক কিনা, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য দিতে পারেনি অমি। সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

মিরসরাইয়ের বাসাটি ছিল ট্রেনিং সেন্টার

অমিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিটির একজন কর্মকর্তা জানান, মিরসরাইয়ের বাসাটি তারা ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করছিল। বাসাটি ভাড়া নিতে তারা একটি দম্পতিকে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিল। বাড়িওয়ালা যেন তাদের ব্যাচেলর সন্দেহ না করে। অমি জানিয়েছে, পাশাপাশি দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মিরসরাইয়ের বাসাটিকে তারা ট্রেনিং সেন্টার ও গ্রেনেড তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। অমির ভাষ্যমতে, ওই বাসায় তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অপরিচিত কিছু লোকজন আসতো যারা গ্রেনেড তৈরি করে রেখে যেত। তাদের কাজ ছিল এসব গ্রেনেড ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া। এর আগেও একাধিকবার তারা দু’জন একসঙ্গে ঢাকায় গিয়ে গ্রেনেড পৌঁছে দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

 আরও পড়ুন: কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলাকারী জসিম-ই কি সেনা কর্মকর্তা কবিরের নিখোঁজ ছেলে অমি?

/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
চিত্রনায়িকা ববির বাসায় চুরির ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ৪ ভরি স্বর্ণ
চিত্রনায়িকা ববির বাসায় চুরির ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ৪ ভরি স্বর্ণ
বিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলাবিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের