লেকহেড স্কুল বন্ধের আদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩৬, নভেম্বর ০৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৭, নভেম্বর ০৯, ২০১৭

লেকহেড স্কুল (ছবি-সংগৃহীত)লেকহেড গ্রামার স্কুলের গুলশান ও ধানমন্ডি শাখা বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্কুলটি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

লেকহেড স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিন ও ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের দায়ের করা পৃথক দুটি রিটের আংশিক শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। স্কুলটির মালিককে তার প্রতিষ্ঠান খোলা ও পরিচালনা করতে দেওয়ার জন্য কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের আর্জি রেখে মামলার শুনানি মুলতবি করা হয় আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

রিটকারী অভিভাবকদের পক্ষে আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ শুনানিতে বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে হঠাৎ স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের কেউ জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ আছে। তাছাড়া স্কুলটির মালিকানাও বদলেছে।’

শুনানিতে এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘বিনা নোটিশে এভাবে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা এখন কোন স্কুলে যাবে? তারা কিভাবে নিজেদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে?’

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেন, ‘স্কুলটির বিরুদ্ধে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছে। এখানে শিক্ষা কার্যক্রমের আড়ালে উগ্র ধর্মীয় মতবাদ প্রচার হয় বলেও অভিযোগ আছে। এসবের ভিত্তিতে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। সেই সূত্রেই স্কুলটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘স্কুলের সব শিক্ষার্থী জঙ্গি হলে সবাইকে আটক করেন। দুই-একজনের জন্য তো সব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। তারা এখন কোথায় যাবে? কোথায় ভর্তি হবে? তাছাড়া ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।’

শুনানি শেষে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, স্কুলটির কোনও অনুমোদন নেই। এজন্যই তারা স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা শুনানির সময় শিক্ষা বোর্ডের একটি সনদ আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছি। এই স্কুলটি ২০০৯ সালে নিবন্ধিত। এছাড়া ২০১৬ সালে নিবন্ধন নবায়ণ করা হয়, এর মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত। এটাই আজ আমাদের মূল বিতর্ক ছিল।’

এই নারী আইনজীবীর ভাষ্য, ‘স্কুলটির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদসহ আরও কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে (স্কুল বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে)। কিন্তু সেখানে কোনও নির্দিষ্ট আইন উল্লেখ নেই। স্কুলের মালিক, শিক্ষক এমনকি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের দুই-একজন অভিযুক্ত হলেই তো আর সবাই দায়ী হয়ে যায় না। তাই এসব বিষয় উল্লেখ করে স্কুলটি খুলে দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেকহেড স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্কুল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুরা মানসিক যন্ত্রণায় আছে। কী কারণে ও কেন স্কুল বন্ধ হয়েছে তা জানতে চায় তারা। তাছাড়া আর কিছুদিন পরেই ওদের বার্ষিক পরীক্ষা। তারা অন্য স্কুলে ভর্তি হলে তাদের নতুন সহপাঠীরা তাদের বলবে— তুমি জঙ্গি স্কুলের ছাত্র, তুমি জঙ্গি। অথচ গত ১৭ বছরে স্কুলটির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আসেনি।’

গত ৬ নভেম্বর গুলশান ও ধানমন্ডির দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখানকার যুগ্ম-সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন না নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। পরে স্কুল বন্ধের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত বৃহস্পতিবার রুল জারি করলেন।

/বিআই/জেএইচ/

লাইভ

টপ