রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সামনে পুলিশের সঙ্গে তার দলের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে বিএনপি কর্মীদের ইট-পাটকেলে আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়া, খালেদা জিয়া দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছার পর চানখাঁরপুলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের ফের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে মহিলা দলের নেত্রী পপিসহ ১০-১২ জনকে আটক করে পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে কাকরাইল মোড়ে আসার আগেই তিন দিক থেকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে আহত হন পুলিশের দুই সদস্য। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি। এখানে খালেদা জিয়ার গাড়ি ৭-৮ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর আবারও আদালতের পথে রওনা দেয়।
এ প্রসঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশের এসি (লজিস্টিক) হুমায়ুন কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে থাকা অতি উৎসাহীরাই পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এতে তিন জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’
তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম বলতে পারেননি কর্তব্যরত পুলিশের এসি। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কাকরাইল চার্চ মোড়ে বিক্ষোভকারীরা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পূর্ব ফটকে একটি মোটরসাইকেল ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ফটকের সামনে আরেকটি মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়। এ সময় অধিদফতরের সামনের সড়ক বিভাজকেও আগুন দিতে দেখা গেছে।
প্রধান বিচারপতির বাসভবনের গেটে আগুন দেওয়া বাইকটি এনএসআই কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বলে জানিয়েছেন ওই সংস্থার আরেক সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা ব্যক্তিরাই গাড়িতে আগুন দিয়েছে।’
এর আগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর মগবাজার মোড় পার হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনের রাস্তায় পৌঁছালে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। মগবাজার মোড় থেকে প্রধান বিচারপতির বাসভবন পর্যন্ত দুই দফা সংঘর্ষ হয়। মগবাজারে ছাত্রদল কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের বহির্বিভাগের বাইরের অংশে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। তখন সড়ক বিভাজকের ওপর থাকা ছোট ছোট গাছ ভাঙে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল নেতা আশরাফুল আলম রবিনের অভিযোগ, ‘পরীবাগের দিক থেকেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা প্রথম হামলা করে।’
দুর্নীতির মামলার রায় শুনতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন খালেদা জিয়া। রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০টির বেশি গাড়ি আছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যরা ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আছেন।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সাত রাস্তা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধীর গতিতে চলতে থাকে। সাত রাস্তা পার হওয়ার পর ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে এসে বহরে যুক্ত হয়। এ সময় তাদের কোনও ধরনের বাধা দেয়নি পুলিশ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বকশীবাজারে বিশেষ আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। ওই বছরই ৪ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করেন আদালত। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।
মামলার বাকি আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আর তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক।







