‘সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি অযৌক্তিক নয়। এখন যে আন্দোলন হচ্ছে তা দেখে মনে হয় কোটা বাতিলের দাবি হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। সংস্কারের দাবি হতেই পারে, এটা যৌক্তিক। বর্তমান বাস্তবতা অনুধাবন করে সরকার চাঈলে সাবেক কোনও খ্যাতিমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব কিংবা কোনও খ্যাতিমান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করতে পারে। এই কমিশন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বিধি বিচার বিশ্লেষণ করতে পারে। প্রয়োজনে গণশুনানি করতে পারে। সবপক্ষের মর্যাদা রক্ষা হয় এমন একটা উপায় খুঁজে বের করে সরকারকে সুপারিশ করতে পারে’।
বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) ‘চাকরি নিয়োগে কোটা বনাম মেধা’ শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের চিফ নিউজ এডিটর দুলাল আহমদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন সময় জানতেন দেশের কারা কোন অবস্থায় ছিলো। অনগ্রসর শ্রেণিকে চাকরিতে সুযোগ দিয়ে সমাজে সমতা আনার বিবেচনায় তিনি কোটা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে, ফলে কোটা সংস্কার করা যৌক্তিক।’
দুলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে কোটার পরিমাণ প্রায় ৫৬ ভাগ। এটা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হয়, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ও মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমান্ড মুখোমুখি অবস্থান করছে। চাকরিবঞ্চিত দেশের শিক্ষিত তরুণরা একটা দাবি তুলেতেই পারে। সরকার দেশের প্রয়োজনে মানুষের প্রয়োজনের আইন-কানুন সংস্কারের মাধ্যমে যুগপোযোগি করতে পারলে এক্ষেত্রে নয় কেন? তবে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করে আমরা জাতিকে নতুন করে বিভক্ত করতে চাই না। এরমধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বিভ্রান্তিকর ম্যাসেজ যাবে। স্বাধীনতাবিরোধীরা সুযোগ পাবে। এ বিষয়ে দু’পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বর্তমান বাস্তবতা কিন্তু সরকারকেই অনুধাবন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এরইমধ্যে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আজকের বাংলাদেশ আর ৪৫ বছর আগের বাংলাদেশ কিন্তু এক নয়। ফলে বিশদ বিতর্কে না গিয়ে সরকারকেই কোটা সংস্কার নিয়ে কাজ করতে হবে। এই কোটা সংস্কার সময়ের দাবি। সমালোচনায় না গিয়ে সরকারের উচিত হবে ওই কোটা সংস্কার করা, এজন্য একটি কমিশন গঠনে করে বিচার বিশ্লেষণ করতে পারে।’
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন: এম এ মোমেন
রাজধানীর শুক্রাবাদে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করছে এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজেও লাইভ দেখা যাচ্ছে বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি।
মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নিয়েছেন- সাবেক যুগ্ম সচিব ড. এম এ মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক হারুন হাবীব, কলামিস্ট শরীফুল হাসান, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সমন্বয়কারী মো. রাশেদ খান এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন








