দেশের ৪১-৬০ বছরের পুরুষদের সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রায় ৬৬ শতাংশ নারী। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৬ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ব্র্যাকের গবেষকরা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২৬-৪০ বছর বয়সী পুরুষদের যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৫৯ শতাংশ নারী। এছাড়া গণপরিবহনে যাতায়াত করা নারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, তাদেরকে যৌন হয়রানি করেছে ১৯-২৫ বছর বয়সী পুরুষরা।
ব্র্যাকের গবেষণা অনুযায়ী—নারী পথচারীদের মধ্যে ৪২ শতাংশের অভিযোগ, ১৯-২৫ বছর বয়সী তরুণরা যৌন হয়রানি করে। ২৬-৪০ বছর বয়সী পুরুষদের মাধ্যমে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। নারী পথচারীদের জন্য সবচেয়ে বিপদজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২৬-৪০ বয়সী যৌন নির্যাতনকারীরা।
মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘যৌন নির্যাতনকারী পুরুষরা ইচ্ছে করে নারীদের স্পর্শ করে বা চিমটি কাটা, কাছ ঘেঁষে দাঁড়ানো বা আস্তে ধাক্কা দেওয়া, চুল ধরা বা কাঁধে হাত রাখা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশে স্পর্শ করে থাকে। হয়রানির শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি, ভুক্তভোগীদের ৮১ শতাংশই নীরব থাকেন আর ৭৯ শতাংশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।’
প্রায় দুই দশক ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য ব্র্যাক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে ‘রোড সেফটি প্রোগ্রাম জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি’ কর্মসূচির সহায়তায় ‘সেফ রোড ফর উইমেন: রিডিউসিং সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্ট অ্যান্ড রোড ক্র্যাশ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ সাদ আন্দালিব, অধ্যাপক সিমিন মাহমুদ, ফাহমিদা সাদিয়া রহমান ও কবিতা চৌধুরী।






