একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের গোপন বৈঠক সংক্রান্ত অভিযোগের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।
বুধবার (৯ মে) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এ তথ্য দেন।
তবে এর আগে ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ওপর তদন্ত চলছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।
তিনি বলেন, ‘আমরা তার (তুরিন আফরোজ) বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী এক আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে এ অভিযোগে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে তার অধীনে থাকা সব মামলার শুনানি করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ। এই ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রসিকিউশনের কেউ হয়তো এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
পরে এ বিষয়ে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৭ মে চিফ প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে সংশ্লিষ্ট ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। তারপর গত ৮ মে তাকে প্রসিকিউশনের সব দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। চিফ প্রসিকিউটরের দুটি চিঠি এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তার (তুরিন আফরোজ) সঙ্গে আসামির কথোপকথনের (গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের) সিডিসহ যাবতীয় নথি আজ (বুধবার) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মালিক হলো মন্ত্রণালয় বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।
কিন্তু ট্রাইব্যুনালের সূত্র মতে, গত ১১ নভেম্বর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিটর তুরিন আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে এবং এ বিষয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নজরে এলে প্রসিকিউটর তুরিনকে এ মামলা থেকে প্রাথমিকভাবে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। পরে এ সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বুধবার (৯ মে) আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।








