অবশেষে বিআরটিসির বাস ধরলেন ম্যাজিস্ট্রেট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৪৭, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৪, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

বিআরটিসির এই বাসটির চালকের লাইসেন্স নেই

নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সরকারি সংস্থার কোনও যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করার দৃশ্য চোখে পড়েনি। সাংবাদিকরা এমন অভিযোগ সামনে তুলে ধরায় বিআরটিসির বাস থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ সাদিয়া তাজনীন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) দোতলা বাস থামিয়ে কাগজ যাচাই করেন তিনি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই একে একে বেসরকারি বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় কয়েকজন পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানতে চান,  বিআরটিসির বাস ধরা হয় না কেন?

গাবতলী রুটে চলাচলকারী গাবতলী লিংকের একটি বাসের মালিক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন আইন অনুযায়ী জরিমানা করছে তা মানলাম। কিন্তু এই অভিযানে বিআরটিসি’র বাস বাদ যাবে কেন?’

এসময় একযাত্রী বলেন, ‘আইন প্রয়োগ করলে সবার জন্য একই ব্যবস্থা হওয়া উচিত। বিআরটিসি বাসও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সকাল থেকে অনেকগুলো গাড়ি সামনে দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু কোনও গাড়ি ধরে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়নি।’

বিআরটিসি বাস কেন ধরা হচ্ছে না বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ বলেন, ‘আমরা সব ধরনের পরিবহনের কাগজপত্র দেখছি। এখানে কোনও বিভেদ নেই।’
বিআরটিসির বাস কেন থামানো হচ্ছে না জানতে চাইলে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, ‘ম্যাজিস্ট্রেট স্যার নির্দেশ না দিলে আমি পারবো না।’

এর কিছুক্ষণ পর ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ পেয়ে মোহাম্মদপুর থেকে কুড়িল রুটে চলাচলকারী বিআরটিসির একটি দোতলা বাস (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ব ১১-৫৮১২) থামানো হয়। ট্রাফিক সার্জেন্ট এসময় কাগজপত্র চাইলে মামলার একটি কাগজ বের করে দেখান বাসের চালক। এরপর তিনি কাগজপত্রসহ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যান। ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান যে, আগের মামলাটি লাইসেন্সের। সেটার জরিমানাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স তোলা হয়নি। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট চালককে বলেন, ‘এভাবে লাইসেন্স ছাড়া আপনি গাড়ি চালাতে পারবেন না।’ এরপর বাস ডিপোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ম্যাজিস্ট্রেট। লাইসেন্সবিহীন এই চালককে দিয়ে আর বাস না চালানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ সাদিয়া তাজনীন।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বিআরটিসির ওই বাসচালকের মামলার টাকা জমা দেওয়া আছে। কিন্তু তিনি কাগজ তুলে নিয়ে আসেননি। তার অফিসারকে আমি ফোনে বলে দিয়েছি, তাকে যেন গাড়ি আপাতত আর চালাতে না দেন।’

/এসও/এপিএইচ/

লাইভ

টপ