আমাদের অনেক গবেষক দরকার: শিক্ষা উপমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৬:৩৪, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৯, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রীউচ্চশিক্ষার প্রচলিত ‘মডেল’ শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরি নির্ভর হয়ে গড়ে উঠতে প্রভাবিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের পোস্টগ্র্যাজুয়েটের দরকার নেই, আমাদের অনেক গবেষক দরকার। শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে ১৮তম এশিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টস ফোরাম-২০১৯ (এইউপিএফ-২০১৯) এর অতিথিদের সম্মানে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমাদের পোস্টগ্র্যাজুয়েটের প্রয়োজন নেই, আমাদের গবেষক দরকার। প্রযুক্তির যুদ্ধের পাশাপাশি যে ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে, তা নিয়ে কাজ করতে আমাদের আরও বেশি গবেষক প্রয়োজন। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে চাই এবং প্রচলিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।

তিনি আরও, আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তির প্রসার, স্টার্টআপ শিল্প নিয়ে কথা বলছি। আমরা যারা শিক্ষা দিচ্ছি, তারা কী উচ্চ শিক্ষার সেই প্রচলিত ‘মডেল’ নিয়েই থাকবো? যেখানে আমরা শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি কেবল বাজারে যেটার চাহিদা বেশি তার দিকেই ঝুঁকতে। আমরা কি উচ্চশিক্ষাকে প্রচলিত ব্যবসা হিসেবেই পরিচালনা করবো? এভাবে চলতে থাকলে এক সময় টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে। বিশ্ব যেসব পরিবর্তন আসছে, তার প্রেক্ষিতে পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের পুনরায় ভাবতে হবে।

উপমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কোনো না কোনোভাবে একরকমের ব্যবসা হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্ট্যাটাস, র‍্যাংকিং, সমঝোতা স্মারক, ভালো সার্টিফিকেট বিক্রির দিক দিয়ে বেশ ভালো করছে। তবে এটা কি টেকসই হচ্ছে অথবা আমরা কি যাদের লাভবান করার কথা তাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করছি? আমার মনে হয় আমরা করছি না। আমি বিশ্বাস করি এ জন্য আমাদের শিক্ষাদানের পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমি মনে করি আমরা যেই কাঠামোর মধ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তার পরিবর্তন দরকার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এইউপিএফ-২০১৯ এর আহ্বায়ক ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড. এস এম মাহবুবুল হক মজুমদার। পরে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।

২২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আশুলিয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ।

উল্লেখ্য, চীন ও থাইল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক থেকে ১৯৯৯ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্ট ফোরাম (এইউপিএফ) যাত্রা শুরু করে। দেশ দুটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রেসিডেন্টরা যাতে সহজেই নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারেন এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশে সিনো-থাই হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনে একটি সম্মেলন করার জন্য থাইল্যান্ডের গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ, চাওশান কলেজ, শ্রীনাখারিনউইরট ইউনিভার্সিটি ও সিয়ামস ইউনিভার্সিটি সম্মিলিতভাবে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। সেই থেকে প্রস্তাবিত সম্মেলনটি প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে সমগ্র এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রেসিডেন্টদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

 

/এসও/টিটি/

লাইভ

টপ