সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইউজিসির চিঠি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০৪, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৩, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনসান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধে উদ্যোগ নিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের সই করা এই চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সান্ধ্যকালীন কোর্স পরিচালনা করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বিধায় এই কোর্স বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য মো. আবদুল হামিদ সভাপতির বক্তব্যে সান্ধ্যকালীন কোর্স পরিচালনার সমালোচনা করে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সকালে সরকারি এবং বিকালে বেসরকারি।’
এরপরই এই চিঠি পাঠালো ইউজিসি।
ইউজিসির সদস্য ড. দিল আফরোজা বেগমের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের কোনও কোনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের অনুমতি না নিয়ে নতুন বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হচ্ছে। এমনকি পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে। সরকারের আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করে দেওয়া হচ্ছে ভূতাপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা।

বিশ্ববিদ্যালয়কে সভ্যতার অন্যতম বাতিঘর উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপাচার্যরা মেধা-জ্ঞান-প্রজ্ঞা দিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন। তবু নানা কারণে কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি প্রতিপালনে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, যা কাম্য নয়।


চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে মোট ১৩ দফা নির্দেশনা প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো—

• বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অনুষদ, বিভাগ, প্রোগ্রাম বা ইনস্টিটিউট খোলার ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।
• কমিশনের অনুমোদন ছাড়া নতুন পদ সৃষ্টি বা বিলুপ্ত করা বিধিসম্মত নয়। নতুন পদ সৃষ্টির আগে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
• শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধিবিধান এবং সরকারের নীয়ম-নীতি প্রতিপালন করা অবশ্য কর্তব্য।
• বিধিবহির্ভূতভাবে ‘সেশন বেনিফিট’ সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিম্নতর গ্রেড থেকে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করা বাঞ্ছনীয় নয়।
• সরকারি ‘আর্থিক বিধিমালা’ অনুযায়ী আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য প্রতিপালনীয়।
• ক্যাম্পাসে শিক্ষানুকূল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত রাখা বাঞ্ছনীয়।
• শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিধানে ক্লাসরুম থেকে শুরু করে হল, অফিস ও ক্যাম্পাসের সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
• যৌন হয়রানি, র‌্যাগিং, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন আবশ্যক।
• সান্ধ্যকালীন কোর্স পরিচালনা করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে বিধায় সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
• নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু, পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
• অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
• অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমসহ যেকোনও বিষয়ে প্রয়োজনে কমিশনের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

/এসএমএ/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ