বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন চীনা নাগরিক গাউ জিয়ান হু। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই পরিবারের বাকি সদস্যরা চীনে রয়েছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গাউ জিয়ানকে হত্যা করে তার টাকা লুটের পরিকল্পনা করে ভবনের সিকিউরিটি গার্ড রউফ ও ইনামুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ ডিসেম্বর একবার গাউ জিয়ানের বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেও পারেনি। এরপর ১০ ডিসেম্বর তারা বাসায় ঢুকে গাউ জিয়ানের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার ব্যাগ থেকে ৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে লাশ বাড়ির পেছনের মাটিচাপা দেয়। এরপর যথারীতি ডিউতে যায় রউফ ও ইনামুল।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বনানী থেকে রউফ ও ইনামুলকে গ্রেফতার করেছে ডিবির উত্তর বিভাগ। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং লুট করে নেওয়া টাকার মধ্যে এক লাখ সাড়ে একুশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা, বালতি, গর্ত খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত কাঠের টুকরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডিবির কমিশনার বলেন, রউফ ও ইনামুল ওই ভবনে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতো। তারা থাকতো ওই ভবনের ছাদে। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গাউ জিয়ানের টাকা লুট করার প্রস্তাব দেয় রউফ। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগ খুঁজতে থাকে তারা। এরপর তারা নিশ্চিত হয় ওই বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেটাতে রেকর্ড হয় না। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় গাউ জিয়ানের বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করে।
আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তারা দরজায় নক করার পর গাউ জিয়ান জানতে চান কী চাও? জবাবে তারা, ওয়াটার (পানি), ওয়াটার বলে। মানে পানি খেতে চাচ্ছে বোঝায়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ইনামুল গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরে এবং রউফ কোমর জাপটে ধরে। অল্প সময়ের মধ্যে জিয়ানের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রউফের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে কামড় দেন গাউ জিয়ান। কয়েক মিনিটের মধ্যে জিয়ানের মৃত্যু হয়। গাউ জিয়ানের ড্রয়িং রুমের টেবিলের ওপর তার ল্যাপটপ খোলাই ছিল এবং পাশে ছিল একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে তিনটি এক হাজার টাকার বান্ডিল, কিছু খুচরা টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয় রউফ ও ইনামুল।’
তিনি জানান, রাত ১১টার দিকে রউফ ভবনের পেছনে মাটি খোঁড়ে লাশ চাপা দেয়। পরদিন গাউ জিয়ানের ড্রাইভার ও কাজের বুয়া তাকে তার বাসায় না পেয়ে এবং তার ব্যবহৃত স্যান্ডেলে রক্তের দাগ দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে ড্রাইবার সুলতান ভবনের পেছনে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় পায়ের গোড়ালি দেখে এবং খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
লুট করা মোট টাকার মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা নেয় রউফ এবং ইনামুল নেয় ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। টাকাগুলো ভাগ করার পর বিকাশের মাধ্যমে বাড়িতে বন্ধু ও স্বজনদের কাছে টাকাগুলো দু’জন পাঠায় বলে জানিয়েছেন ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা।
ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাকলাইন জানান, যাদের কাছে টাকাগুলো পাঠানো হয়েছিল, সেগুলো ফেরত আনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
চীনা নাগরিক হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২
ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকে চীনা ব্যবসায়ীকে হত্যার ধারণা পুলিশের
চীনা নাগরিকের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার








