‘আদর্শ শিক্ষক বলতে যা বোঝায়, ড. মনিরুজ্জামান তাই’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০৬, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৩, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান স্মরণে সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই সভা হয়। এসময় এসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় অধ্যাপক ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান কখনও উপাচার্য হতে চাননি, প্রক্টর হতে চাননি। দেশের শিক্ষকরা যদি মনিরুজ্জামানকে অনুসরণ করতেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থা অনেকদূর এগিয়ে যেত। রাজনীতিকরা যদি তার রাজনৈতিক জ্ঞান অনুসরণ করতেন, তাহলে দেশের রাজনীতির বর্তমান এই অবস্থা হতো না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তালুকদার মনিরুজ্জামান আমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার কাছ থেকে তার ছাত্র-ছাত্রী, সহকর্মী এবং অন্যান্যরা যা শিখেছেন তা নিয়মিত চর্চা করুন, তার গুণের কথা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করুন এবং তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ থাকুক।’ 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তালুকদার মনিরুজ্জামান সাহেবরা সব সময় আসেন না। পৃথিবীতে খুব ক্ষণজন্মা পুরুষ তারা। তারা অল্প সময়ে এসে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে যান। তাকে নিয়ে অনেক কথা, অনেক স্মৃতি আছে, সেদিকে না গিয়ে এটুকু বলতে চাই, তালুকদার মনিরুজ্জামান সাহেবের চলে যাওয়া দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজকে যে রাষ্ট্র আমরা সবাই মিলে তৈরি করেছি, এটা একটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ বিষয়টি তালুকদার মনিরুজ্জামান সাহেবের নিশ্চয় একটা দুঃখের কারণ ছিল। এরপরে যে তিনি খুব একটা জনসম্মুখে আসতেন না, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন তার অন্যতম কারণ ছিল এটা।’ 

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আজকে পতাকার কথা বলা হয়, দেশের কথা বলা হয়। কিন্তু যার দেশ, তার যে ভোট নাই- এই কথা বলা হয় না। দেশে এত চিন্তাশীল বুদ্ধিমান লোক আছে, কিন্তু এই কথা বলা হচ্ছে না। আজকে বুয়েট ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে টর্চার সেল চলতেছে। ছাত্ররা মারামারি করছে। তারা কিছুতেই সুশিক্ষা নিয়ে বের হতে পারছে না। সেজন্য মনে হচ্ছে আমাদের দেশে জ্ঞানের মৃত্যু হয়েছে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অনুসরণ করার মতো রাজনীতিক এখন এদেশে কমই রয়েছে। মনিরুজ্জামানের জ্ঞান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। যদি রাজনীতিকরা মনিরুজ্জামানের রাজনৈতিক জ্ঞান অনুসরণ করতেন, তাহলে দেশের রাজনীতির এই অবস্থা হতো না।’ 

স্মরণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, অধ্যাপক এ কে এম শহিদুল্লাহ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন প্রমুখ। এছাড়াও মনিরুজ্জামানের ছেলে ড. সাদিক মনির।

প্রসঙ্গত, তালুকদার মনিরুজ্জামান ১৯৩৮ সালের ১ জুলাই সিরাজগঞ্জের তারাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ৮১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। 

/এইচএন/এএইচ/

লাইভ

টপ