কোরনা ভাইরাস আতঙ্কে বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি

Send
জাকিয়া আহমেদ ও চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২২:০৩, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৫, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

 

কোরনা ভাইরাসপ্রাণঘাতী সার্স ভাইরাসের মতোই আরেক প্রাণঘাতক কোরনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে চীনে। এ কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। বিমানবন্দরে কর্মরতদের প্রশিক্ষণেরও ব্যব্স্থা নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী, দায়িত্বরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, বিমানবন্দরের স্যানিটেশন, ফিউমিগেশন ও আগত যাত্রীদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। বিদেশে থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে কেউ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত কিনা তা শনাক্ত করতে রয়েছে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার। এ থার্মাল স্ক্যানার মেশিনের মাধ্যমে দেহের উত্তাপ মাপার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কেউ আক্রান্ত কিনা তা শনাক্ত করা হয়। চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষভাবে স্ক্রিনিং করা শুরু হবে সোমবার (২০ জানুয়ারি) থেকে। এছাড়া বিমানবন্দরে কর্মরতদের প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকও করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কোরনা ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে দুই জন। আক্রান্তদের সবাই উহানের নাগরিক। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের যে পরিসংখ্যান চীন হাজির করছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭০০ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ( আইইডিসিআর)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস এম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এন কোরনা ভাইরাস বাংলাদেশে আসতেও পারে, তবে তার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে চীনের উহান থেকে সরাসরি ফ্লাইট নেই, তবে আমরা বিমানবন্দরে বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু করবো আগামীকাল থেকে। যদিও থার্মাল স্ক্যানার চালু রয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। ডা. আলমগীর আরও বলেন, চায়না, হংকং, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড থেকে আসা কারও যদি জ্বর থাকে তাহলে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নাম-ঠিকানা রাখবে। তিনি জানান, এই ভাইরাসের অন্যতম লক্ষণগুলো হলো, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট।

বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, আমার সব সময় অ্যালার্ট। সব যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানারের মধ্য দিয়েই আসতে হয়। এরপরও বিশেষ সতর্কতা আমাদের আছে।

এদিকে পর্যাপ্ত জায়গা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। বিমানবন্দরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড ও নীতিমালা থাকলেও তা যথাযথ অনুসরণ করা হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত যাত্রী শনাক্তকরণ ও হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে, যেসব সংকট রয়েছে তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ