চীন ফেরত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন, ঝুঁকি থাকলেও সতর্ক আইইডিসিআর

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:২৭, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৫, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

উহান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থান আশকোনার হাজি ক্যাম্পচীনের উহান থেকে দেশে ফিরেছেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। এছাড়া, নিজ দেশে ছুটি কাটিয়ে ২৩ জন চীনা নাগরিকও শনিবার ঢাকায় ফিরে এসেছেন। এদের মধ্যে ১০ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকি ৩২৫ জন বাংলাদেশি ও চীনা  নাগরিককে কোয়ারেন্টাইনের জন্য আশকোনা হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে গণরুমের মেঝেতে ঢালাও বিছানা ও একসঙ্গে অনেকের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন চীন থেকে আসা ব্যক্তিরা। এদিকে, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, কিছুটা  ঝুঁকি থাকলেও সর্ত্কতার সঙ্গে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

হজ ক্যাম্পে থাকা উহান ফেরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইশান ইসলাম বলেন, ‘এখানে ব্যবস্থাপনা দেখে আমরা হতাশ। এভাবে গণরুমে একসঙ্গে থেকে আমরা আরও বেশি ঝুঁকিতে আছি। এত লোক একসঙ্গে পাশপাশি থাকলে কারও যদি সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বাকিরাও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেনের তত্ত্বাবধায়নে আশকোনা হজ ক্যাম্পে মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে চীন ফেরত বাংলাদেশিদের জন্য।

ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে— সুস্থ মানুষ, যাদের দেহে সংক্রামক ব্যধির জীবাণু প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের ‘ইনকিউবিশন পিরিয়ড (সুপ্তকালীন সময়) পর্যন্ত আলাদা করে রাখা।’

চীন ফেরত ব্যক্তিদের হজ ক্যাম্পের মেঝেতে রাখা নিয়ে  সমালোচনা হচ্ছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘শুধু আশকোনা নয়, যেকোনও থাকার জায়গাতেই যদি ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল হয়, তাহলে তাদেরকে সেখানেই রাখা হতো। এক্ষেত্রে শুধু দেখতে হবে যে, তারা যেন বাইরে কারও সঙ্গে ‘মিক্সআপ’ না করে। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ইজ নট এ হসপিটাল।’’

কিন্তু গণরুমে যারা আছেন, তাদের একজনও যদি ভাইরাসে আক্রান্ত থেকে থাকেন, তাহলে অন্যরা আক্রান্ত হবেন কিনা, জানতে চাইলে ডা. মুশতাক বলেন, ‘ওইটুকু ঝুঁকিতো রয়েছেই। এজন্য বলা হয় যে, কোয়ারেন্টাইন,বিমানবন্দর স্ক্রিনিং এগুলো কোনোটাই হান্ড্রেড পারসেন্ট গ্যারান্টি না। তারপরও প্রতিনিয়ত তাদের জ্বর মাপা হচ্ছে। সবাইকে বলা হয়েছে যে, কেউ যদি অসুস্থ বোধ করেন, তবে সেখানে অবস্থান করা মেডিক্যাল টিমের কাছে রিপোর্ট করার জন্য। রেগুলার রাউন্ডও দেওয়া হচ্ছে।’

এভাবে কোয়ারেন্টাইন স্বাস্থ্যসম্মত কিনা প্রশ্নে আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অবশ্যই, কোয়ারেন্টাইনে এভাবেই রাখা হবে।

এখানে যদি কারও কোনও সাইন-সিম্পটম দেখা যায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। আবার একই সাইন-সিম্পটমের সবাইকে একইসঙ্গে রাখা হবে। যাদের কোনও রকম লক্ষণ দেখা দিয়েছে তাদের সাত জনকে একটি হাসপাতালে, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন এই বাংলাদেশিদের মধ্যে শিশু এবং পরিবারগুলোকে পৃথক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আশকোনা হজ ক্যাম্পের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় মোট সাতটি ডরমেটরিতে চীন থেকে আসা সবার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের হটলাইনে (২০১৯) এনসিওভি সংক্রান্ত কল এসেছে ৭৮টি, আর গত ২১ জানুয়ারি থেকে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কল এসেছে ১২৬টি।

প্রসঙ্গত, ৩১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি  শনিবার  সকাল ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাকি ৩২৫ জনকে  আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া যায়।

সেখানে তাদের সবাইকে ২০১৯ এনসিওভি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘এদের মধ্যে শরীরে তাপমাত্রা বেশি থাকাতে সাত জনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, আর তিন জনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে পর্যবেক্ষণের জন্য। এ পর্যন্ত কোনও যাত্রীর মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কোনও লক্ষণ দেখা দিলে সেনাবাহিনী  ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষ দল সংক্রমণ শনাক্ত করা জন্য এবং আইইডিসিআরের দল প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।  একইসঙ্গে এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

চীন থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের যেকোনও তথ্য তাদের পরিবারকে নিয়মিতভাবে অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X